গরমের তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস? ঠান্ডা হাওয়া আর সবুজের খোঁজে উইকএন্ডে ‘জুরান্তি’
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিউজ ডেস্ক: ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি আর শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েকটা দিন শান্তিতে কাটাতে চান? তবে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের চালসা অঞ্চলের ছোট্ট, শান্ত ও সবুজে মোড়া গ্রাম জুরান্তি হতে পারে আপনার পরবর্তী আদর্শ গন্তব্য। সুবিশাল চা-বাগান এবং অপার্থিব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই জনপদ প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক আস্ত স্বর্গরাজ্য। একদিকে মূর্তি আর অন্যদিকে নেওড়া নদী— এই দুইয়ের মাঝে অবস্থিত জ়ুরান্তি গ্রামটি যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার। এখানকার ঔপনিবেশিক আমলের আবহ আর শান্ত পরিবেশ নিমেষেই আপনার সব ক্লান্তি দূর করে দেবে।
কেন যাবেন জুরান্তিতে?
-
ঐতিহ্যের ছোঁয়া ও সুবিশাল চা-বাগান: জ়ুরান্তির মূল আকর্ষণ এখানকার বিখ্যাত টি এস্টেট। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সবুজ চা-বাগানের মাঝ দিয়ে হেঁটে চলা এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়। এখানে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী বাংলো এবং চা-কারখানা, যা পর্যটকদের ভীষণভাবে টানে।
-
নদীর শীতল হাওয়া: জ়ুরান্তি নদীর পাড় ধরে বয়ে যাওয়া ঠান্ডা হাওয়া আর নির্জনতা ভ্রমণপিপাসুদের মন ভরিয়ে দিতে বাধ্য।
আশপাশের আরও কিছু দর্শনীয় স্থান
জুরান্তিকে কেন্দ্র করে আপনি ডুয়ার্সের একগুচ্ছ জনপ্রিয় অফবিট জায়গা অনায়াসে ঘুরে নিতে পারেন:
-
গোরুমারা ন্যাশনাল পার্ক: জ়ুরান্তি থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। অরণ্য সফরে ভাগ্য ভালো থাকলে দেখা মিলতে পারে একশৃঙ্গ গণ্ডার, হাতি, বাইসন ও নানা বন্যপ্রাণীর।
-
অন্যান্য আকর্ষণ: এছাড়াও খুব সহজেই ঘুরে আসা যায় নেওড়া ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক, সামসিং, সুনতালেখোলা, ঝালং, বিন্দু, পারেন এবং লাভার মতো অসাধারণ সব পাহাড়ি জনপদ।
জুরান্তিতে কী কী করবেন?
-
চা-বাগানের বুক চিরে চলে যাওয়া মেঠো পথে হারিয়ে গিয়ে বুক ভরে নিন নির্মল বাতাস।
-
জ়ুরান্তি নদীতে শান্তিতে বসে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, যা ফিরিয়ে দেবে শৈশবের স্মৃতি।
-
পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে সামসিং বা সুনতালেখোলার নদীখাতে জমিয়ে পিকনিক করতে পারেন।
কীভাবে পৌঁছাবেন?
জুরান্তি যাওয়া অত্যন্ত সহজ। ট্রেনপথে এলে আপনাকে নামতে হবে নিউ জলপাইগুড়ি জংশনে আর আকাশপথে এলে নিকটবর্তী বিমানবন্দর হলো বাগডোগরা। সেখান থেকে সরাসরি গাড়ি বা ট্যাক্সি ভাড়া করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় চালসার এই সুন্দর গ্রামে।
কোথায় থাকবেন এবং সেরা সময়
থাকার জন্য এখানে রয়েছে হেরিটেজ ব্রিটিশ বাংলো এবং স্থানীয়দের আন্তরিক আতিথেয়তায় ভরা বেশ কিছু চমৎকার হোমস্টে। যেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, আরামদায়ক ঘরের পাশাপাশি মিলবে জিভে জল আনা সুস্বাদু পাহাড়ি খাবারের স্বাদ।
টিপস: বছরের যেকোনো সময়ই জুরান্তি যাওয়া যায়। তবে ঘোর বর্ষার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে, তাই বর্ষাকাল বাদে বাকি যেকোনো সময় ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়াই শ্রেয়!
