রাজ্যে বাড়ছে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি বুথ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটদান প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে পশ্চিমবঙ্গে এক ধাক্কায় বাড়ানো হচ্ছে ৪ হাজার ৬৬০টি নতুন ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা পোলিং স্টেশন। এর ফলে রাজ্যে মোট বুথের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৮৫ হাজার ৩৭৯টি।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট বুথে ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ পার করলেই সেখানে অতিরিক্ত ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। ভোটারদের লম্বা লাইন এড়াতে এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করতেই এই পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি ৩২১টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রকে পুরনো জায়গা থেকে সরিয়ে সুবিধাজনক নতুন ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভোটারদের জানানো বাধ্যতামূলক
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, বুথ বাড়লে বা ঠিকানা বদল হলে সেই তথ্য প্রতিটি ভোটারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কমিশনেরই। সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক দলগুলোকেও এই পরিবর্তনের কথা লিখিতভাবে জানাতে হবে।
স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তায় কড়া পদক্ষেপ
সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে একাধিক ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছেন:
-
১০০% ওয়েব কাস্টিং: প্রতিটি বুথেই থাকবে ওয়েব কাস্টিংয়ের সুবিধা, যা সরাসরি মনিটর করবে কমিশন।
-
মোবাইল নিষিদ্ধ: নিরাপত্তার খাতিরে কোনো ভোটার মোবাইল ফোন নিয়ে বুথে ঢুকতে পারবেন না।
-
হেল্পলাইন ও সহায়তা ক্যাম্প: প্রতিটি বুথে বিশেষ সহায়তা ক্যাম্প থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ জানানোর জন্য থাকবে ডেডিকেটেড ফোন নম্বর।
-
ভোটের হার: প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর কত শতাংশ ভোট পড়ল, তা জানা যাবে ECINET অ্যাপের মাধ্যমে।
নির্বাচন কমিশনের এই তৎপরতা দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ছাব্বিশের লড়াইয়ে বিন্দুমাত্র ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না কমিশন।
