আজকের দিনেবাংলার আয়না

ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে ক্যানিংয়ে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দক্ষিণ ২৪ পরগণাঃ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে কড়া নজরদারি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের প্রভাবিত করা বা ভয় দেখানোর অভিযোগে এবার সরাসরি কমিশনের নির্দেশে গ্রেফতার হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের এক দাপুটে তৃণমূল নেতা। মুর্শিদাবাদের পর ক্যানিংয়ের এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ক্যানিংয়ে গ্রেফতার হাফিজুল মোল্লা

অভিযোগের তির দেউলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাফিজুল মোল্লার দিকে। সম্প্রতি একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি দেন বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, তিনি প্রকাশ্যেই হুমকি দিয়েছিলেন যে, ভোট গণনার পর এলাকায় ‘স্টিম রোলার’ চালানো হবে। এই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই সক্রিয় হয় কমিশন। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে পুলিশকে দ্রুত তাঁকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মুর্শিদাবাদেও একই ছবি

ক্যানিংয়ের ঘটনার ঠিক আগেই মুর্শিদাবাদের বহরমপুর পুরসভার একটি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি রাজু মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আরও গুরুতর:

  • বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া।

  • ভোট দিতে না গেলে বাড়িতে ‘মিষ্টি’ পৌঁছে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি।

  • প্রতিটি বাড়ির ভোট কোন দিকে যাচ্ছে, তার ওপর নজরদারি চালানো হবে বলে দাবি করা।

কমিশনের কড়া বার্তা

মালদহের সাম্প্রতিক অশান্তি এবং সুপ্রিম কোর্টের কঠোর অবস্থানের পর পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বাড়তি সতর্ক নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে:

ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

প্রতিটি জেলায় অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে হবে।

উসকানিমূলক মন্তব্য বা হুমকির প্রমাণ পেলেই কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভোটের মুখে শাসকদলের একের পর এক নেতার গ্রেফতারি বিরোধীদের হাতে যেমন অস্ত্র তুলে দিয়েছে, তেমনই সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করতে কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *