আজকের দিনেতিলোত্তমা

আমাকে বাঁচা’ বলে আত্মীয়কে ফোন! শেষরক্ষা হলো না তারাতলা কাণ্ডের সেই মন্নুর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, তারাতলাঃ “আমাকে বাঁচা!”— বুধবার রাত দেড়টা নাগাদ ধ্বংসস্তূপের নিরেট অন্ধকার আর চাঁইয়ের তলা থেকে ফোনের ওপার থাকা আত্মীয়কে আকুতি জানিয়েছিলেন বিহারের যুবক মন্নু কুমার। সেই ফোন ট্র্যাক করেই প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করেছিল উদ্ধারকারী দল। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ হাসপাতালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন ওই যুবক। তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫।

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ফোন, তারপর…

বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা ১১ জন সদস্যের একটি পরিবার কলকাতার তারাতলার ওই গোডাউনে শ্রমিকের কাজ করতে এসেছিলেন। বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে যখন হুড়মুড়িয়ে বহুতলটি ভেঙে পড়ে, তখন ওই পরিবারের সদস্যরাও সেখানে আটকে পড়েন।

বুধবার দুর্ঘটনার পর থেকেই খোঁজ মিলছিল না মন্নু কুমার ও শিরচাঁদ কুমারের। উদ্ধারকাজ যখন জোরকদমে চলছে, ঠিক তখনই বুধবার রাত আনুমানিক দেড়টা নাগাদ পরিবারের অন্য সদস্য সন্তোষের মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপারে ছিলেন ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মন্নু। মন্নুর গলা পেয়ে সন্তোষ তাঁকে দ্রুত লোকেশন পাঠাতে বলেন, কিন্তু অত্যন্ত জখম অবস্থায় থাকায় মন্নু তা করতে পারেননি।

মোবাইল ট্র্যাক করে উদ্ধার

সন্তোষ আর সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে মন্নুর ফোনের বিষয়টি জানান। এরপরই মন্নুর মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বহু চেষ্টার পর, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা নাগাদ (দুর্ঘটনার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর) ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মন্নুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এসএসকেএম-এ শেষরক্ষা হলো না

উদ্ধারের পরপরই মন্নুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভরতি করা হয়। কিন্তু শরীরের অভ্যন্তরীণ গুরুতর আঘাত এবং দীর্ঘ সময় আটকে থাকার ধকল সামলাতে পারেননি তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। ময়নাতদন্তের পর মন্নুর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

এক পরিবারেই নেমে এল অন্ধকারের ছায়া

এই অভিশপ্ত বিপর্যয় মন্নুর পরিবারকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে:

  • মন্নুর পরিবারের আর এক সদস্য ঘি কুমারের মৃত্যু হয়েছে আগেই, তাঁর দেহ ইতিমধ্যেই বিহারের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে।

  • মন্নুকে নিয়ে এই পরিবারে মৃতের সংখ্যা ২।

  • পরিবারের আরও ৩ জন সদস্য বর্তমানে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

  • এক সদস্যের হদিশ এখনও মেলেনি, তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, তারাতলা বহুতল বিপর্যয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫। চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৩৩ জন আহত ব্যক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *