ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৩৫, জারি জরুরি অবস্থা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- পর পর দুটি জোরালো ভূমিকম্পে প্রাণ কেড়েছে ২৩৫ জনের। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে ভেনেজ়ুয়েলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানিয়েছেন, ২৩৫ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে যাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে অধিকাংশই মৃত। বাকিরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে আহতের সংখ্যা প্রায় ৪৩০০। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জোড়া ভূমিকম্পের পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে যাঁরা আটকে রয়েছেন, তাঁদের বাঁচার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিরে আরও তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চলছে। সে দেশের আইনসভা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রড্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কারণে ভেঙে পড়া ২৫০টি বহুতলের ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও আটকে রয়েছেন ২০০-রও বেশি মানুষ। ১৫৭ জনের কোনও খোঁজ নেই। ভেনেজুয়েলার প্রশাসন প্রাথমিক পর্যালোচনার পর জানান, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ক্যারিবিয়ান সমুদ্র তীব্রবর্তী বন্দরশহর লা গুয়াইরা এবং রাজধানী কারাকাসের উত্তরাংশে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার মূল বিমানবন্দরটিকে। দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। কারাকাস ও শহরতলির বহু মানুষের এখন আশ্রয়স্থল খোলা আকাশ। ভেনেজুয়েলার বহু জায়গাতেই বিদ্যুৎ নেই, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন। স্কুলগুলির পঠনপাঠন আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলিকে অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমেরিকা এবং মেক্সিকো ছাড়াও দুঃসময়ে ভেনেজ়ুয়েলাকে পাশে রয়েছে ব্রাজিল, পর্তুগাল, কাতার ও কানাডা। ইলন মাস্ক বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ‘স্টারলিঙ্ক’ আগামী এক মাস ভেনেজ়ুয়েলায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট পরিষেবা দেবে।
বুধবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময় অনুসারে) ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর দু’টি জোড়ালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। রিখটার স্কেলে প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.২। দ্বিতীয়টি ছিল ৭.৫। দেশটির সরকার জানিয়েছে, বিগত এক শতাব্দীর মধ্যে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনের মধ্যে ছিল এবারের ভূমিকম্প।
