রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের আগে, সত্যাগ্রহে বসার হুঁশিয়ারি মমতার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের আগে বড় হুঁশিয়ারি মমতার । তার বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে তিনটি ওয়ার্ডে ছাপ্পা দেওয়ার ছক তৈরি হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী। এমনকি তার নির্বাচনের প্রচার ব্যান করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর, যদি নির্বাচন কমিশন তার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাহলে বাড়িতে বসে তিনি সত্যাগ্রহ করবেন বলে হুশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে নিজের কেন্দ্রের ছাপ্পা দেওয়া, এমনকি তার প্রচার ব্যান করার যে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলেছেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই মুহূর্তে। সরাসরি কারো নাম না করলেও তার অভিযোগের তীর কমিশন ও বিজেপির দিকে তা মনে করছে বাংলার রাজনৈতিক মহল । ভবানীপুর বিধানসভার কলিন্স লেনে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে জোড়া ফুল শিবির। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত দেখে মমতার আশঙ্কা তার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে । বিগত ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার কমিশন ২৪ ঘন্টার জন্য ব্যান করেছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন তৃণমূল নেত্রী। এছাড়া তার আরো অভিযোগ ভবানীপুর বিধানসভা ৬৩, ৭৪ এবং ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছাপ্পা ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার জগদ্দল এর তৃণমূলের নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বলেন ” আমার বিধানসভার তিনটি ওয়ার্ড বেছে নিয়েছে— ৭৪, ৭৭ ও ৬৩ নম্বর। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ছাপ্পা করাবে। আমিও ধাপ্পা দেবো, তখন বুঝবে ঠেলা। বিছুটিপাতার ঝোল খাওয়াব। তুমি আমাকে চেনো না। যেখানে তুমি গন্ডগোল করবে, আমি গিয়ে হাজির হব। তুমি আটকাও আমাকে।’ এরপরেই তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ সংযোজন, ‘আমাকে তুমি ব্যান করবে? আমাকে ব্যান করলে সারা ভারত আমাকে দেখবে। আমি ঘরে বসে সত্যাগ্রহ করব। আমার বাড়ির বারান্দায় বসে থাকব। সারা দেশ তোলপাড় হবে। সারা বিশ্ব তোলপাড় হবে।’’ জেলায় জেলায় ভোট প্রচার সেরে সোমবার মমতা ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ছোট সভা করেন। এই ওয়ার্ডের বহুতলের আবাসিকদের সঙ্গেও ঘরোয়া আলাপচারিতা সারেন তিনি। মমতার সঙ্গে এই জনসংযোগ কর্মসূচিতে ফিরহাদ হাকিম, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়–সহ জোড়াফুলের অন্য নেতারা ছিলেন। মঙ্গলবারও উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকোয় নির্বাচনী সভা সেরে মমতা ভবানীপুরে ফিরে ঘরোয়া জনসংযোগ করেছেন। কিন্তু কলিন্স লেনে প্রচার কর্মসূচির অনুমতি না মেলায় ক্ষুব্ধ মমতা এ দিন বলেন, ‘গদ্দারের লোককে রিটার্নিং অফিসার করেছে! সে বলছে অনুমতি দেবো না। নির্বাচনের পরে দেখব, বিজেপি তোমাকে রাজ্যপাল করে, নাকি রাষ্ট্রপতি করে! তুমি থাকো তো বারুইপুরে! তোমাকে আমরাই বিডিও বানিয়েছিলাম। রিটার্নিং অফিসার হওয়ার যোগ্যতা নেই তোমার।’ যদিও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট বলেন, ‘এই সভার জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। সুবিধা অ্যাপে অনলাইনে প্রথমে অনুমতি চেয়ে তারপরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। লিখিত ভাবে অফলাইনে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। কারণ, অফলাইনে কোনও সভার অনুমতি দেওয়া হয় না। অনলাইনেই আবেদন করতে হবে।
রাজ্যের মধ্যে এবারের নির্বাচনে সব থেকে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর । এবার এই কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, মমতার ছাপ্পা ভোট দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ ও প্রচার ব্যান এর আশঙ্কা নিয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
