আজকের দিনেবাংলার আয়না

পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি নিয়ে সুর চড়ালেন মমতা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নাকাশিপাড়া (কৃষ্ণনগর): জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তানের মন্ত্রীর সরাসরি হুমকি এবং সেই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে এবার তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কৃষ্ণনগরের নাকাশিপাড়ায় এক নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর প্রশ্ন—পাকিস্তান বলছে কলকাতা উড়িয়ে দেবে, তা শুনেও কেন আপনারা চুপ?”

পাক মন্ত্রীর সেই বিতর্কিত হুঁশিয়ারি

সম্প্রতি ভারত-পাক সম্পর্কের তিক্ততা নতুন মাত্রা পেয়েছে। রবিবার পাকিস্তানের শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ভারতকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দেন। তিনি বলেন,“ভারত যদি মিথ্যা অজুহাতে কোনো অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তবে সংঘাত আর ২০০-২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা সেই লড়াই কলকাতা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাব। আমরা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ঘরে ঢুকে হামলা চালাব।”

নাকাশিপাড়া থেকে মমতার পাল্টা তোপ

পাকিস্তানের এই প্ররোচনামূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সোমবার বেথুয়াডহরি জেসিএম উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ থেকে গর্জে ওঠেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করার কথা বললেন কী করে? প্রধানমন্ত্রী তো গতকালই (রবিবার) রাজ্যে প্রচারে এসেছিলেন। তিনি কেন কোনো পদক্ষেপের কথা বললেন না? কেন পাকিস্তানকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়া হলো না?” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “ওখানকার মন্ত্রীকে দিয়ে কে একথার বলিয়েছেন? আমি এসবের তদন্ত চাই। কলকাতার ওপর কোনো আক্রমণ আমরা মানব না।”

জাতীয় নিরাপত্তা ও তৃণমূলের অবস্থান

মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তৃণমূল সবসময় দেশের পাশে থেকেছে। উদাহরণস্বরূপ-

গত বছর কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে লস্কর জঙ্গিদের হামলায় ১৮ জনের মৃত্যুর পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে।

পাল্টা জবাবে ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রচারের সময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদলে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা স্পষ্ট করে দেন, ভারতীয় হিসেবে জাতীয় স্বার্থে তাঁরা একজোট, কিন্তু বাংলার হৃদপিণ্ড কলকাতাকে নিয়ে কোনো রকম আপস বা হুমকি বরদাস্ত করা হবে না।

নির্বাচনী উত্তাপ ও জাতীয় রাজনীতি

ভোটের মুখে পাকিস্তানের এই হুমকি এবং তাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। যেখানে বিজেপি বরাবর নিজেদের ‘জাতীয়তাবাদের রক্ষক’ হিসেবে দাবি করে, সেখানে পাকিস্তানের হুমকি নিয়ে মোদি-রাজনাথের ‘নীরবতা’কে হাতিয়ার করে পালটা দেশপ্রেমের তাস খেললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দেখার, কেন্দ্রের শাসকদল এর কোনো প্রতিক্রিয়া দেয় কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *