বুথ এজেন্টদের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা মমতার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, পিংলা: ভোটের রণদামামা বাজার ঠিক মুখেই ফের উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেপ্তারি এবং তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের ধরপাকড় নিয়ে এবার সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, বেছে বেছে তৃণমূলের আসনগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে এবং বুথ এজেন্টদের ভয় দেখানো হচ্ছে।
এজেন্সি নিয়ে কড়া তোপ
সোমবার রাতেই কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বিধানসভা ভোটের মাত্র দশ দিন আগে এই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবেই দেখছে শাসক শিবির। এদিন পিংলার কাঁচডিহা স্ট্যাক ইয়ার্ড মাঠের সভা থেকে মমতা বলেন, “এবার তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা কেউ ভোট কেন্দ্রে বসতে না পারেন।”
বিকল্প ব্যবস্থার নির্দেশ
কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই তৎপরতার মোকাবিলায় দলের কর্মীদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি সাফ জানান,দমে না গিয়ে প্রতিটি বুথে বিকল্প এজেন্ট তৈরি রাখতে হবে। পুরুষ এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হলে প্রয়োজনে মা-বোনেদের এজেন্ট হিসেবে বুথে বসাতে হবে। ”এক জনকে গ্রেপ্তার করলে আর এক জন তৈরি থাকবে,”—এই মন্ত্রেই লড়াইয়ের ডাক দেন তিনি।
বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ
এদিন ফের একবার নির্বাচন কমিশনকেও একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে তিনি হুঙ্কার দেন, “ভাবছ, নোংরা খেলা খেলবে? কিন্তু তা হবে না। দুরন্ত খেলা খেলে তোমাদের (বিজেপি) পগার পার করব।” ভোটের মুখে তাঁর এই আশঙ্কা এবং পাল্টা চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার
উল্লেখ্য, সবং বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়া এবং পিংলা বিধানসভার প্রার্থী অজিত মাইতির সমর্থনে আজ এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি-সক্রিয়তা এবং ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার মতো ইস্যুগুলোতে সুর চড়ান তৃণমূলনেত্রী।
সোমবার রাতেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, বিরোধী পক্ষে কাজ করলেই টার্গেট করা হচ্ছে। আজ পিংলার মঞ্চ থেকে মমতার বক্তব্যে সেই একই প্রতিধ্বনি শোনা গেল, যা ভোটের আগে শাসক দলের আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়ে দিল।
