কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কল্যাণী: সামান্য কথা কাটাকাটি যে এত বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি পরিবার। মায়ের বারণ উপেক্ষা করে বাইরে বেরোতে না পারায় অভিমানে আত্মঘাতী হলেন ১৯ বছরের এক যুবক। মঙ্গলবার সকালে নদিয়ার কল্যাণী থানার মদনপুর তেঘড়ি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত
মৃত যুবকের নাম সুদীপ বিশ্বাস (১৯)। পেশায় তিনি কাঠের মিস্ত্রি ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুদীপ গত কয়েকদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সোমবার রাতে অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি বাড়ি থেকে বাইরে বেরোতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মা ছেলের শরীরের কথা ভেবে তাঁকে বাইরে যেতে বারণ করেন। এই নিয়ে মা ও ছেলের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি ও মনমালিন্য হয়। শেষমেশ মা একটু কড়াভাবে বকাবকি করলে সুদীপ নিজের ঘরে চলে যান।
ভয়াবহ পরিণতি
মঙ্গলবার সকালে দীর্ঘক্ষণ হয়ে গেলেও সুদীপ ঘর থেকে বেরোচ্ছেন না দেখে মা তাঁকে ডাকতে যান। বারবার ডাকার পরেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ হয় পরিবারের। এরপর ঘরের পেছনের জানলা দিয়ে তাকাতেই দেখা যায়, গলায় নামাবলির ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন ওই যুবক। মায়ের আর্তনাদে ছুটে আসেন প্রতিবেশী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
পুলিশি তৎপরতা
খবর দেওয়া হয় চাকদহ থানায়। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত দেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি কল্যাণী কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিমানেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন যুবক। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শোকাতুর পরিবার
সামান্য বকাবকির জেরে ছেলে এমন ভয়ংকর পদক্ষেপ করবে, তা ভেবেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। এলাকায় অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিলেন সুদীপ। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে গোটা মদনপুর তেঘড়ি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।