‘আসল তৃণমূল’ এখন ঋতব্রতর হাতে, স্পিকারের সিলমোহরে বিরোধী দলনেতার কুর্সিতে ঋতব্রত
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল তৃণমূলের পরিষদীয় দল। বিদ্রোহী বিধায়কদের চিঠিকে স্বীকৃতি দিলেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোস। বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত জানালেন, “আজ থেকে বিরোধী হিসেবে আমাদের পথচলা শুরু”।
পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বললেও দলের অন্দরে চোরাস্রোত চলছিল। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা চিঠির সই নিয়ে বিতর্কই বদলে দেয় খেলা। সই কাণ্ডে মুখ খুলে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ‘পাওয়ার গেম’-এ শামিল হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা।বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূল’-এর মর্যাদা পেতে নিয়ম অনুযায়ী জেতা আসনের দুই তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৫২ জন বিধায়কের সম্মতি প্রয়োজন। বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সই করা চিঠি জমা দেন ঋতব্রতরা। জল্পনা সত্যি করে বিদ্রোহীদের চিঠিকে স্বীকৃতি দেন অধ্যক্ষ। এর ফলে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ‘আসল মালিকানা’ পেলেন ঋতব্রত ও তাঁর সঙ্গী বিধায়করা।ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলের ঘর। ঋতব্রতর হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে চাবি। সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, “অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূলের যে পরিষদীয় দল, তাতে আর কোনও নেতা নেই। কেউ নেতা, কেউ ভৃত্য তা নয়। এটা পুরোটা একটা টিম। আজ পর্যন্ত এটা ৫৮ জন বিধায়কদের টিম। আরও ২ জন আছেন।” তিনি আরও জানান, চিপ হুইপ হচ্ছেন আখরুজ্জামান, উপ দলনেতা জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহা। ঋতব্রত বলেন, “সিংহভাগ বিধায়কই সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। আজ থেকে বিরোধী হিসেবে আমাদের পথচলা শুরু।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে চেয়েছেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বলেন, “সরকারের চোখে চোখ রেখে প্রয়োজনে বিরোধিতা করব। আবার সরকারের সদর্থক ভূমিকার প্রশংসাও করব।”
তবে এই ৫৮-৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনেই সার্বিকভাবে মমতার হাত থেকে তৃণমূলের মালিকানা দাবি করা যায় না। দলের প্রতীক, নাম এবং অন্যান্য সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার দাবি করার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিচারের এক্তিয়ারে পড়ে। ঋতব্রতরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করলে নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। কমিশন দলের সব বিধায়ক, সাংসদ, এমনকী পদাধিকারীদের মতামত জানতে চাইবে। সেই মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। যদিও সেই সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করা যায় আদালতে।
স্পিকারের স্বীকৃতির পর বিধানসভায় পরিষদীয় দল হিসেবে ঋতব্রত শিবিরই এখন ‘আসল তৃণমূল’। তবে দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর। রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ শুরু হল।
