এবার ট্রেনে যাত্রীদের জন্য বিশেষ সাজে আসছে ‘ঝালমুড়ি’, বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রেল মন্ত্রক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- ঝালমুড়ি এখন ব্র্যান্ড। ভোট প্রচারে বিজেপিকে বার বার শুনতে হয়েছিল, বাঙালির মন বোঝে না পদ্মশিবির। শাসকদল এই তিরে বার বার বিদ্ধ করেছিল বিজেপি। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বার বার প্রচারে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর এই প্রচারের অঙ্গে উঠে এসেছিল ঝালমুড়ি। ভোট প্রচারে ঝাড়গ্রামে এসে এক স্টেশনারি দোকানে সটান ঢুকে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিক্রেতার সঙ্গে গল্প গল্প করতে করতে ঝালমুড়ি খেতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরেও থেকে থাকেনি সেই ঝালমুড়ির যাত্রা। রাতারাতি ব্র্যান্ড আইটেম হিসেবে উঠে এসেছে৷ সম্প্রতি দিল্লিতে নীতি আয়োগের বৈঠকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিজেকে ঝালমুড়ি পরিবেশন করতে দেখা যায়। আর সেই ঝালমুড়ি মজা নিতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। ছিলেন অমিত শাহ থেকে রাজনাথ সিং সহ আরও অনেকেই।
এবার সদ্য সমাপ্ত যোগ দিবসের আগে ঝালমুড়িকে ‘স্বাস্থ্যকর খাদ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকও৷ এবার ব্র্যান্ড হয়ে ওঠা ঝালমুড়ি নিয়ে বড় পদক্ষেপের কথা ভাবছে রেল মন্ত্রক। দিল্লিতে রেল মন্ত্রক সূত্রের দাবি, অদূর ভবিষ্যতে বন্দে ভারত, রাজধানী, দূরন্ত ও শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের যাত্রীদের জন্য মুখরোচক ‘স্ন্যাক্স আইটেম’ হিসেবে ঝালমুড়ি পরিবেশন করার কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আগামী দিনে দেশের সব মেট্রো শহরের বড় রেল স্টেশনগুলিতে ভ্রাম্যমাণ ফুড স্টলের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী পরিবেশনের কথা ভাবছে রেল মন্ত্রক।
সেখানে সস্তায় স্বাস্থ্যকর, খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে ঝালমুড়ি রাখা হবে বলে রেলমন্ত্রক দাবি করছে। স্টেশনগুলির মধ্যে থাকছে হাওড়া, কলকাতা ও শিয়ালদহ। সূত্রের খবর, দেশের বড় স্টেশনগুলিতে ভ্রাম্যমাণ ফুড স্টলের মাধ্যমে খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার সঙ্গে ভারতীয় রেলের একটি নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তি হবে, এর পরে বিক্রেতারদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সেই খাবার বিক্রির লাইসেন্স। এই চুক্তি মেনে পূর্ব নির্ধারিত দামে এবং সঠিক গুণমান বজায় রেখে স্বাস্থ্যকর খাবার ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে পারবেন বিক্রেতারা। কোনও ভাবেই খাবারের দাম যেন সাধারণ যাত্রীদের নাগালের বাইরে না যায়, সেটা নিশ্চিত করবে রেল। এই স্টল থেকে যাতে স্টেশনে আবর্জনা না ছড়ায়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হবে।
স্টলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনেই খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ স্টলগুলিকে স্টেশনের একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যেই ঘোরাফেরা করতে হবে। স্টলের জন্য যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামায় যাতে কোনও ধরনের অসুবিধা না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে। মন্ত্রকের আধিকারিকদের দাবি, প্রিমিয়াম ট্রেনের মতোই দেশের সর্বত্র মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে ভ্রাম্যমাণ স্টলগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
