স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের পর আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা স্বামীর?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আলিপুরদুয়ার: বৃহস্পতিবার কাকভোরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল আলিপুরদুয়ার। দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে বা ধস্তাধস্তির জেরে আহত হয়েছেন অভিযুক্ত স্বামীও। বর্তমানে তিনি পুলিশি নজরদারিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই হাড়হিম করা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম ধনবালা রায় অধিকারী। তিনি আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের শালকুমার ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। প্রতিদিনের মতোই স্বামীর সঙ্গে নিজের ঘরেই ছিলেন ধনবালা দেবী। অভিযোগ, আজ কাকভোরে আচমকাই শোওয়ার ঘরে স্ত্রীকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় তাঁর স্বামী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারা হয় তাঁকে।
রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানাতেই লুটিয়ে পড়েন ওই মহিলা। ভোররাতে ঘর থেকে আসা চিৎকার শুনে তড়িঘড়ি ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই খবর দেন স্থানীয় থানায়। পুলিশ এসে রক্তাক্ত অবস্থায় ধনবালাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তদন্তে পুলিশ:
অন্যদিকে, স্ত্রীকে কোপানোর সময় অভিযুক্ত স্বামীও জখম হয়েছেন। প্রাথমিক অনুমান, আক্রান্ত হওয়ার পর নিজেকে বাঁচাতে ধনবালা দেবী যখন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন, তখনই কোনোভাবে আঘাত লাগে অভিযুক্তের। আবার পুলিশের একাংশের অনুমান, স্ত্রীকে খুনের পর অভিযুক্ত নিজেই আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে থাকতে পারে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
কিন্তু কেন এই নৃশংস খুন?
ঘটনার পিছনে কি কোনো পারিবারিক বিবাদ নাকি পরকীয়ার টান রয়েছে? তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতদেহটি ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে পুলিশ প্রশাসন।
