প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া! নিখরচায় বাসে চড়লেন প্রায় ৪.৮ লক্ষ মহিলা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বিজেপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিমতো ১ জুন, সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা। আর প্রথম দিনেই এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে রাজ্যজুড়ে সরকারি বাসগুলিতে উপচে পড়ল নারীদের ভিড়। পরিবহণ দপ্তর সূত্রে খবর, প্রথম দিনেই কলকাতায় প্রায় ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ১২১ জন এবং গোটা রাজ্যে মোট ৪ লক্ষ ৮৮ হাজার মহিলা যাত্রী বিনামূল্যে সরকারি বাসে সওয়ার হয়েছেন। এর আগের সোমবারের তুলনায় এই সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বেড়েছে। জেলাগুলির মধ্যে কলকাতার পরেই মহিলা যাত্রীর নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া।
সারপ্রাইজ ভিজিটে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
সরকারি নির্দেশিকা কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, না কি বাস্তবেও রূপায়িত হচ্ছে— তা খতিয়ে দেখতে প্রথম দিনই ময়দানে নেমে পড়েন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার দুপুরে গড়িয়াহাট মোড় থেকে রুবিগামী একটি সরকারি বাসে আচমকা উঠে পড়েন তিনি। মন্ত্রীকে বাসে উঠতে দেখে স্বাভাবিকভাবেই হকচকিয়ে যান কন্ডাক্টর ও যাত্রীরা।
বাসে উঠে এক মহিলা যাত্রীর পাশে বসে মন্ত্রী নিজেই জানতে চান, তাঁদের কাছ থেকে জোর করে টিকিট কাটা হচ্ছে কি না। এরপর নিয়ম মেনে কন্ডাক্টরের কাছ থেকে নিজের জন্য একটি ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ সংগ্রহ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “সরকার শুধু নির্দেশিকা জারি করেই দায় ঝেড়ে ফেলতে পারে না। কাজটা আদৌ হচ্ছে কিনা, তা দেখার দায়িত্ব আমাদেরই। বাংলার মা-বোনেরা যে আজ উপকৃত হচ্ছেন, এটাই সরকারের সার্থকতা। অনেকের কাছে দিনে ৫০-১০০ টাকা বাঁচানো অনেক বড় ব্যাপার।”
সরকারি এসি বাসেও ‘ফ্রি’ সফর:
এই নতুন নিয়মে সাধারণ সরকারি বাসের পাশাপাশি দূরপাল্লার এবং এসি বাসেও মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারছেন। যেখানে এসি বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা, সেখানে এই তীব্র গরমে বিনামূল্যে এসি বাসে যাতায়াত করতে পেরে দারুণ খুশি মহিলা যাত্রীরা। বারাসত-করুণাময়ী রুটের EB-12, AC-2, AC-37-এর মতো এসি বাসগুলিতে সকাল থেকেই ছিল থিকথিকে ভিড়। বাসের কন্ডাক্টর সোমনাথ ভাওয়াল জানান, একটি ট্রিপে ৮০ জন যাত্রীর মধ্যে প্রায় ৫০ জনই ছিলেন মহিলা। ভিড়ের কারণে অনেক পুরুষ যাত্রী নেমে গেলেও, মহিলারা দাঁড়িয়েই গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন।
এমনকি এই সুযোগে অনেক মহিলা দিঘা কিংবা দার্জিলিং ভ্রমণের পরিকল্পনাও শুরু করে দিয়েছেন। বারাসত তিতুমীর বাসস্ট্যান্ডের দূরপাল্লার সরকারি টিকিট কাউন্টারে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। কাউন্টার কর্মী শান্তনু বসাক জানান, দিঘা-দার্জিলিং সহ সব রুটেই মহিলাদের জন্য বাস এখন ফ্রি।
আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’, বাড়বে আসন সংখ্যা
পরিবহণ দপ্তরের কর্তারা মনে করছেন, আগামী দিনে মহিলা যাত্রীদের এই সংখ্যা আরও বাড়বে। সেই কথা মাথায় রেখে আগামীতে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
-
পিঙ্ক কার্ড : আপাতত যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্র দেখালেই বাসে নিখরচায় টিকিট মিলছে। তবে আগামী দিনে এই পরিষেবা পাওয়ার জন্য মহিলাদের একটি নির্দিষ্ট ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা গোলাপি কার্ড দেওয়া হবে।
-
আসন সংরক্ষণ বৃদ্ধি: সমস্ত বাসেই মহিলা এবং প্রবীণ যাত্রীদের জন্য আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে মহিলাদের জন্য প্রতি বাসে ১৮–২০ শতাংশ সিট বরাদ্দ ছিল। বিজেপি সরকার সেই আসন সংখ্যা আরও বাড়াতে চলেছে।
প্রথম দিনের পরিসংখ্যান ও উন্মাদনা থেকে স্পষ্ট, নতুন সরকারের এই ‘ফ্রি বাস-যাত্রা’ প্রকল্প খাতা-কলমে আটকে না থেকে বাস্তবে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মহিলাদের পকেটে বড়সড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।
