Hormuz : হরমুজ়ে ড্রোন-যুদ্ধ: মার্কিন গোলায় ঝাঁঝরা ইরানের আকাশ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- শান্তি আলোচনার টেবিলে বসেও থামল না গোলাগুলি। হরমুজ় প্রণালীর আকাশে ইরানের ড্রোন দেখেই ট্রিগারে চাপ দিল মার্কিন বাহিনী। চারটি ড্রোন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর নিশানা করা হল তেহরানের রেডার ঘাঁটিগুলো। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফের বারুদের গন্ধ পশ্চিম এশিয়ায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হরমুজ় প্রণালীকে টার্গেট করে ড্রোন পাঠিয়েছিল ইরান। মার্কিন নজরদারি ব্যবস্থায় ধরা পড়তেই পাল্টা গোলাবর্ষণ শুরু হয়। আকাশেই ধ্বংস করা হয় চারটি ড্রোন। শুধু ড্রোন নয়, ভবিষ্যতে হামলার আশঙ্কা ঠেকাতে ইরানের উপকূলবর্তী রেডার সাইটগুলোতেও একযোগে আঘাত হানে আমেরিকা। হরমুজ়ের একটি দ্বীপ-সহ একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চলে শেলিং। ইরান এখনও এই হামলা নিয়ে মুখ খোলেনি।
সংঘাতের শুরু ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ইরানে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা মিসাইল ছোড়ে তেহরান। এরপর সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও দু’পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়নি। কূটনৈতিক স্তরে দফায় দফায় বৈঠক চলছে, কিন্তু শর্ত নিয়ে টানাপোড়েন কাটেনি। তার মধ্যেই হরমুজ়ে এই সংঘর্ষ আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।
হরমুজ় প্রণালী এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন ফ্ল্যাশপয়েন্ট। এই সঙ্কীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেলের ট্যাঙ্কার যাতায়াত করে। আমেরিকা-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছে ইরান। বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ আটকে দিচ্ছে তারা। পাল্টা ‘নৌ-অবরোধ’ শুরু করেছে ওয়াশিংটনও। ইরান থেকে আসা বা ইরানগামী যে কোনও জাহাজকে আটকানো হচ্ছে। ফলে তেলের দামে অস্থিরতা, শেয়ার বাজারে ধস, বিশ্ব বাণিজ্যে মন্দার ছায়া।
নতুন হামলার পর হরমুজ়ে মোতায়েন বাড়িয়েছে মার্কিন নৌবহর। পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডও। দু’পক্ষই শক্তি দেখাচ্ছে, অথচ আলোচনার টেবিলও ছাড়ছে না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বার বলছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু মাটিতে ছবিটা উল্টো। ড্রোন, গোলা, রেডার সাইটে হামলা—সব মিলিয়ে শান্তি এখনও দূরের বাতিঘর। হরমুজ়ের জল যত গরম হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতির পারদও তত চড়ছে। যুদ্ধবিরতি টিকবে, নাকি নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে যাবে পশ্চিম এশিয়া? উত্তর লুকিয়ে হরমুজ়ের আকাশে।
