আজকের দিনেআবহাওয়া

জোড়া নিম্নচাপে ভরসা, জুনের ৪০% বৃষ্টি-ঘাটতি মেটাবে জুলাই?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- জুনে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃষ্টি-ঘাটতির মুখে পড়েছে ভারত। এবার জুলাইয়ে সেই ঘাটতি মেটানোর আশা দেখাচ্ছে বঙ্গোপসাগর। শুক্রবার উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির পর আরও একটি নিম্নচাপ ঘনানোর সম্ভাবনা দেখছেন আবহবিদরা। মৌসুমি অক্ষরেখা ও জোড়া নিম্নচাপের জেরে চলতি সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন।

৪ জুন খাতায়কলমে বর্ষা শুরুর পর থেকে জুনে দেশে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৯৯.৫ মিলিমিটার। স্বাভাবিক গড় ১৬৫.৪ মিলিমিটার। অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ। গত ১০০ বছরের অন্যতম শুষ্ক জুন কাটাল ভারত। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সময়মতো বর্ষা এসে জলাধার ভরেছিল, চাষও জল পেয়েছিল। কিন্তু ২০২৬-এর জুনে ছবিটা উল্টো। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, জুলাইয়ে ভারতে স্বাভাবিক বৃষ্টির গড় ২৮০.৪ মিলিমিটার। জুন-জুলাই মিলিয়ে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা ৪৪৫.৮ মিলিমিটার। জুনে হয়েছে মাত্র ৯৯.৫ মিলিমিটার। ফলে ঘাটতি মেটাতে জুলাইয়ে দরকার ৩৪৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি। যা জুলাইয়ের নিজস্ব গড়ের ১২৩.৫ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু মৌসম ভবনের পূর্বাভাস বলছে, এ বছর জুলাইয়ে বৃষ্টি হতে পারে ২৬৩.৬ মিলিমিটারের কাছাকাছি। সেক্ষেত্রে জুন-জুলাই মিলিয়ে মোট বৃষ্টি দাঁড়াবে ৩৬৩.১ মিলিমিটার। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১৮.৬ শতাংশ কম। তাই ভরসা এখন বঙ্গোপসাগরের জোড়া নিম্নচাপ।

কাশ্মীর থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। তার সঙ্গে শুক্রবার তৈরি হতে চলা নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। শনিবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, ৭ থেকে ১১ সেমি।

রবিবার বৃষ্টি আরও বাড়বে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, ৭ থেকে ২০ সেমি।

জুনের বিপুল ঘাটতি এক ধাক্কায় মেটানো কঠিন। জুলাইয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৩.৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি না হলে দু’মাসের গড় পূরণ হবে না। তবে জোড়া নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা জুলাইয়ের শুরুতেই ভারী বৃষ্টি দিতে পারে। তাতে চাষের সঙ্কট কিছুটা কাটবে এবং জলাধারগুলিও জল পাবে। আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে বৃষ্টির জন্য তৈরি থাকতে বলছেন আবহবিদরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *