আজকের দিনেতিলোত্তমা

তিলজলায় ‘বুলডোজার অ্যাকশনে’ আপাতত স্থগিতাদেশ হাই কোর্টের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: তিলজলায় বুলডোজার দিয়ে বহুতল ভাঙার ঘটনায় বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আপাতত ওই এলাকায় বাড়ি ভাঙার ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বহুতলের যে অংশটি ইতিমধ্যেই ভাঙা হয়েছে, সেটি যদি বিপজ্জনক অবস্থায় থাকে, তবে বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে তা ভাঙতে পারবে পুরসভা। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটিই পুলিশ ও পুরসভাকে আইন মেনে করতে হবে। আগামী ২২ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ততদিনের জন্য তিলজলায় থমকে গেল ‘বুলডোজার অ্যাকশন’।

“মাশরুমের মতো বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে”, উদ্বেগ বিচারপতির

এদিনের শুনানিতে শহরের বেআইনি নির্মাণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী। তাঁর পর্যবেক্ষণ, একে তো ওই বহুতলের কোনো স্যাংশন প্ল্যান (অনুমোদিত নকশা) দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ, তার ওপর সেখানে ঠিক কী ব্যবসা হতো, সেই সংক্রান্ত কোনো বৈধ নথিও মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারপতি বলেন:”মাশরুমের (ব্যাঙের ছাতা) মতো অবৈধ নির্মাণ হচ্ছে। এটা বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।” আদালতের নির্দেশ, আইনি জটিলতা না মেটা পর্যন্ত ওই বহুতলে আপাতত কোনো ধরনের ব্যবসা চালানো যাবে না।

“থানায় ডেকে জোর করে লেখানো হয়েছে”, পুলিশের বিরুদ্ধে মালিকের বিস্ফোরক দাবি

শুক্রবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে পুরসভা ও পুলিশের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন বাড়ির মালিক। তাঁর দাবি, পুর আইন মেনে এই বাড়ি ভাঙা হয়নি। এমনকি ওই বহুতলে কোনো ট্যানারি (চামড়ার কারখানা) চলছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাড়ির মালিক অভিযোগ করেন:

  • বাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর তাঁদের থানায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

  • সেখানে পুলিশ জোর করে লিখিয়ে নেয় যে, বাড়ি ভাঙার নোটিস নাকি আগেই দেওয়া হয়েছিল।

  • রাজ্যের ঠিক কোন দপ্তর এই বাড়ি ভাঙার অভিযান চালাচ্ছে, তা-ও মালিকপক্ষকে জানানো হয়নি।

বহুতলটি যাতে আর না ভাঙা হয় এবং সেখানে অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়, সেই মর্মে বিচারপতির কাছে আর্জি জানান বাড়ির মালিক।

পাল্টা যুক্তি রাজ্যের: নিয়ম ভাঙার খতিয়ান

বাড়ির মালিকের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, ওই বহুতলে কারখানা চালানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়নি। রাজ্যের আইনজীবীর দাবি:

  • কারখানাটির কোনো ফায়ার লাইসেন্স (অগ্নিসুরক্ষা বিধি) ছিল না।

  • দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কোনো অনুমতিপত্র বা ছাড়পত্র ছিল না।

  • নোটিস দেওয়া হয়নি বলে যে দাবি মালিকপক্ষ করছে তা সম্পূর্ণ ভুল। নোটিস পাঠানো হলেও বাড়ির মালিক তা গ্রহণ করেননি। বাধ্য হয়েই সেই নোটিস বাড়ির দেওয়ালে সেঁটে দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ

দুই পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত আপাতত তিলজলার ওই বহুতলে বুলডোজার চালানো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বিপজ্জনক অংশ সরানোর ক্ষেত্রে পুরসভাকে ছাড় দেওয়া হলেও, বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ ফেরানোর বিষয়ে এখনই কোনো নির্দেশ দেয়নি আদালত। আগামী ২২ জুন পরবর্তী শুনানিতে এই মামলার জল কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *