আজকের দিনেতিলোত্তমা

ইভিএম-ভিভিপ্যাট ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ হাই কোর্টের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ভবানীপুর বিধানসভার গণনা কেন্দ্রের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, পরবর্তী আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য বা ফুটেজ মুছে ফেলা যাবে না। আগামী দু’মাস পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

১২ রাউন্ডের পর ‘নাটকীয়’ বদল, আদালতে সওয়াল কল্যাণের
​মঙ্গলবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের এজলাসে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি অভিযোগ করেন, ভবানীপুরে ভোট গণনার ১২ রাউন্ড পর্যন্ত প্রায় ৭,৮০০ ভোটে এগিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এরপরই জোর করে গণনা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের কর্মী ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। যার পর আচমকাই ৮১ শতাংশ ভোট পেয়ে যান বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কাঠগড়ায় রিটার্নিং অফিসার, নন্দীগ্রামের ছায়া ভবানীপুরেও!
​এদিনের শুনানিতে ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে যে রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে ছিলেন, এবার হঠাৎ করেই তাঁকে ভবানীপুরে নিয়ে আসা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ওই রিটার্নিং অফিসার বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের যুগ্মসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে পুরো বিষয়টির পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র ও কারচুপির সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে আদালতে দাবি করেন মমতার আইনজীবী। সবপক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরেই সমস্ত প্রমাণ ও ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন বিচারপতি।

​নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর: ‘শুভেন্দু-কাঁটা’ মমতার মেয়াদে
​উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে হারিয়েই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে শুভেন্দুর কাছেই পরাজিত হয়েছিলেন মমতা। সেবারের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা ‘ইলেকশন পিটিশন’ এখনও আদালতে বিচারাধীন। এবারও পরপর দু’বার একই প্রতিপক্ষের কাছে হারের পর আইনি লড়াইয়ের পথেই হাঁটলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও বড় ব্যবধানে জিতে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করলেও, গণনা প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে সরব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। হাই কোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশকে আপাতত নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *