আজকের দিনেতিলোত্তমা

High Court : দেবরাজ-অদিতি মামলায় বড় রায় দিল হাইকোর্ট, ১৯ জুনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট তলব !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:-রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সি ও তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিন মামলায় বড় রায় দিল হাইকোর্ট। দম্পতির সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত কতদূর এগোল, ১৯ জুনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে তদন্তকারীদের। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁদের গ্রেফতার করা যাবে না বলে রাজ্যের মৌখিক আশ্বাস।

বিগত ১৯ তারিখ রাত থেকেই খবরে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী। কখনও শোনা গেছে তিনি আটক, কখনও গ্রেফতার, আবার কখনও তাঁর ঘনিষ্ঠ গ্রেফতার হয়েছে বলে খবর।

রাজনৈতিক মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই দেবরাজ ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে রাজারহাট-গোপালপুর-নিউটাউন অঞ্চলে তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি বলেই অভিযোগ। শাসক দলের দৌরাত্ম্যে তাঁর জুলুমবাজি আরও বেড়েছিল বলেও দাবি। দেবরাজ চক্রবর্তী শুধু বিধাননগরের কাউন্সিলর নন, রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী যুব তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। এলাকার জমি, ফ্ল্যাট, প্রোমোটিং থেকে সিন্ডিকেট — সবেতেই তাঁর কথাই শেষ কথা ছিল বলে অভিযোগ বিরোধীদের। প্রশাসন থেকে থানা, সর্বত্র অবাধ যাতায়াত ছিল দেবরাজের। স্ত্রী অদিতি মুন্সি সংগীতশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়িকা। শিল্পী ও বিধায়িকা — দুই পরিচয়ের কারণে প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট প্রভাব ছিল অদিতিরও। এই দম্পতির রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটরাজ বন্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দফায় দফায় কড়া বার্তা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আবহেই এবার সল্টলেকে তোলাবাজি ও আয় বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে পুলিসের জালে ধরা পড়েছে তাবড় তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক ছোট-বড় নেতাই।
সেই সূত্রেই আয়-বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ তুলে গ্রেফতার করা হতে পারে দেবরাজ চক্রবর্তীকে। সেই আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে গিয়েছিলেন অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী বিধাননগর পুরনিগমের কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী।
প্রসঙ্গত,এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে দেবরাজের নাম জড়ায়। তাঁর বাড়িতে তল্লাশিও চালায় সিবিআই। বর্তমানে দম্পতির সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত চলছে। সেই তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্টই তলব করেছে হাইকোর্ট।
অদিতি ও দেবরাজের আইনজীবীর দাবি, তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করা সত্ত্বেও তাঁদের মক্কেলদের আইনিভাবে হেনস্থা ও গ্রেফতারের চক্রান্ত চলছে। সেই কারণেই আদালতে রক্ষাকবচ ও আগাম জামিনের আবেদন জানানো হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, লোকসভা ভোটের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের একাধিক দুর্নীতি মামলায় সক্রিয় সিবিআই-ইডি। ১৯ জুন হাইকোর্টে জমা পড়া রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করছে একসময়ের দাপুটে দেবরাজ-অদিতির আগাম জামিনের ভবিষ্যৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *