সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৫ বছর বাড়াল ‘শুভেন্দু’ সরকার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: গত এক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর বঞ্চনার অবসান। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর মুখে হাসি ফোটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা একধাক্কায় ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল নতুন সরকার। মূলত নিয়োগ দুর্নীতির কারণে যাঁদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে এবং বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই ‘মানবিক’ পদক্ষেপ।
প্রতিশ্রুতি রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী
সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “২০১৫ সালের পর বাংলায় কোনও স্বচ্ছ নিয়োগ হয়নি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা আর দুর্নীতির কারণে বহু যোগ্য প্রার্থীর বয়স শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই তাঁদের কথা ভেবেই সরকারি চাকরিতে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হলো।”
অমিত শাহের প্রতিশ্রুতিতে সিলমোহর
ভোটের প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারংবার আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লে চাকরিপ্রার্থীদের বয়সের ছাড় দেওয়া হবে। শাহ বলেছিলেন, “বাংলার যুবক-যুবতীদের কোনও দোষ নেই, সিস্টেমের ভুলে তাঁদের বয়স ফুরিয়েছে।” সরকার গঠনের প্রথম দিনই সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন শুভেন্দু।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলের মতে, গত এক দশকে শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরে নিয়োগ নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব পড়েছিল চাকরিপ্রার্থীদের ওপর।
- নিয়োগে স্থবিরতা: ২০১৫ সালের পর বড় মাপের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
- নিয়োগ দুর্নীতি: পূর্বতন সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতির কারণে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুলে ছিল আদালতে।
- বয়স বিভ্রাট: আইনি লড়াই আর রাজপথে আন্দোলন করতে করতে অনেক প্রার্থীর সাধারণ বয়সের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল।
খুশির হাওয়া আন্দোলনকারীদের মহলে
সরকারের এই ঘোষণায় খুশির লহর বয়ে গিয়েছে দীর্ঘদিনের আন্দোলনকারীদের মধ্যে। নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা অন্যতম মুখ চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “১০-১২ বছর ধরে যাঁরা দুর্নীতির কারণে পরীক্ষায় বসতে পারেননি বা সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্য এটা নিঃসন্দেহে বড় খবর। টালবাহানার জেরে যে সময়টা নষ্ট হয়েছে, ৫ বছরের এই ছাড় তা কিছুটা হলেও পূরণ করবে।” নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের জেনারেল ক্যাটাগরিসহ সমস্ত স্তরের চাকরিপ্রার্থীরা বাড়তি ৫ বছর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে রাজ্য জুড়ে নতুন করে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি শুরু করার উৎসাহ বাড়ছে বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে।
