আজকের দিনেখেলাতিলোত্তমাবাংলার আয়নারাজনীতি

Football-Naushad-Humayun : স্পনসর সংকটে মহামেডান , নওশাদ সিদ্দিকী ও হুমায়ুন কবীরের দ্বারস্থ ক্লাব !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:-ইনভেস্টর সমস্যায় ধুঁকছে শতাব্দী প্রাচীন মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আই লিগ পেরিয়ে আইএসএলে খেললেও স্পনসর জট কাটেনি। উল্টে ক্লাবের মাথায় এখন ১৩ কোটি টাকার দেনা। আগামী মরশুমে দল গড়া ও ক্লাব পরিচালনার জন্য বিনিয়োগের রাস্তাও বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের দুই সংখ্যালঘু নেতা আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের দ্বারস্থ হলেন মহামেডান কর্তারা।

দীর্ঘদিন আই লিগ খেলতে হয়েছে স্পনসরদের গড়িমসির মধ্যে। আইএসএলে পদার্পণের পরও ছবিটা বদলায়নি। গত দুই মরশুম আইএসএলে খেলছে মহামেডান। কিন্তু স্পনসর সমস্যায় ক্লাবের মাথায় এখন ১৩ কোটির দেনা। সেই সঙ্গে আগামী মরশুমের জন্য বিনিয়োগ, দল গড়া, সুষ্ঠুভাবে ক্লাব পরিচালনা — সবই অনিশ্চিত।

কয়েক মাস আগে নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেছিলেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের পাশে দাঁড়ালেও মহামেডানের সঙ্গে ‘ছাগলের তৃতীয় সন্তানের’ মতো আচরণ করেছেন। তখনই তিনি দাবি করেন, ক্লাব চাইলে স্পনসর এনে দিতে পারেন। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরও সম্প্রতি ক্লাবের সমস্যা মেটাতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।

এবার সংকট কাটাতে দুই নেতাকেই চিঠি দিয়েছে মহামেডান। সঙ্গে চিঠি পাঠানো হয়েছে বাঙ্কারহিল কর্তা দীপক সিংকেও। নওশাদকে লেখা চিঠিতে ক্লাব জানতে চেয়েছে, ইনভেস্টর নিয়ে তাঁর কী ভাবনা এবং ক্লাবের উন্নয়নে তাঁর প্রতিনিধি নিয়োগের পরিকল্পনা কী। হুমায়ুন কবীরকে সরাসরি ক্লাব প্রশাসনে যোগ দেওয়ার আর্জি জানিয়ে ক্লাবে এসে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ক্লাব কর্তাদের বক্তব্য, “সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি ওনারা ক্রাইসিসের সময় পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী। তাই ওনাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চেয়েছি।” রাজ্যের বিগত সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েও সমাধান মেলেনি। তাই এবার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দিকেই তাকিয়ে সাদা-কালো ব্রিগেড। সমস্যা না মিটলে আগামী দিনে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও দ্বারস্থ হতে পারেন মহামেডান কর্তারা।

স্পনসর না পেলে আইএসএলে টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে মহামেডানের কাছে। ১৩ কোটির দেনা আর আগামী মরশুমের দলগঠন — জোড়া চাপে সাদা-কালো শিবির। নওশাদ সিদ্দিকী ও হুমায়ুন কবীরের সাহায্যে সংকট কাটে কিনা, সেটাই এখন দেখার। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপেই কি ফিরবে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের সুদিন? উত্তর দেবে সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *