আজকের দিনেতিলোত্তমা

বহিষ্কৃত ফিরহাদ হাকিম, নতুন চিফ হুইপ মদন মিত্র!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে বেনজির ওলটপালট। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিমকে দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার রাতেই তাঁকে শোকজ করা হয়েছিল, আর আজ, মঙ্গলবার চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিল কালীঘাট। একই সঙ্গে বিধানসভার মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ পদ থেকেও ফিরহাদকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জায়গায় এই গুরুদায়িত্ব পেতে চলেছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র।

তীব্র ক্ষুব্ধ দলনেত্রী:
তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের লাইনের বাইরে গিয়ে সম্প্রতি ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন ফিরহাদ হাকিম। শুধু তাই নয়, ঋতব্রতের শিবিরে যোগ দিয়ে বড় পদও গ্রহণ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন হওয়া সত্ত্বেও ফিরহাদের এই আকস্মিক ‘দলবদল’ ও ‘বিদ্রোহ’ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি শীর্ষ নেতৃত্ব। সোমবার ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের বিশেষ অধিবেশন এবং সাংবাদিক বৈঠকের মতো প্রকাশ্য কার্যকলাপ দেখার পরই চরম ক্ষুব্ধ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জাতীয় কর্মসমিতি থেকে ছাঁটাই:
সোমবার রাতেই তড়িঘড়ি দলের জাতীয় কর্মসমিতিতে বড়সড় রদবদল আনেন তৃণমূলনেত্রী। সংশোধিত সেই নতুন কমিটি থেকে এক ধাক্কায় বাদ দিয়ে দেওয়া হয় ফিরহাদ হাকিম এবং অরূপ বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েট নামদের। ঋতব্রত শিবিরে পদ পাওয়ায় তাঁদের দুজনকে প্রথমে শোকজ করা হয় এবং আজ ফিরহাদকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র কঠোর মূল্যই চোকাতে হচ্ছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়রকে।

স্পিকারকে মেল মমতার, নতুন দায়িত্বে মদন:
দলীয় পদ খোয়ানোর পাশাপাশি এবার বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ পদও হারাচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম। সোমবার রাত পৌনে এগারোটা নাগাদ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসকে একটি জরুরি ইমেল পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানান, ফিরহাদ হাকিমকে বিধানসভার মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) পদ থেকে সরানো হোক। ফিরহাদের পরিবর্তে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে এই নতুন দায়িত্ব দিতে চান তিনি।
​ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের উত্থান এবং তাতে ফিরহাদ হাকিমের মতো শীর্ষ নেতার নাম জড়ানোয় এই মুহূর্তে বাংলার রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে আর কোনো বড় রদবদল হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *