রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার ৬
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বেহালা: ভোটের মুখে রণক্ষেত্র বেহালা পশ্চিমের পর্ণশ্রী। রবিবার বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধরের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তৎপর পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে সোমবার মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ। এই ঘটনায় বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আগেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।
রবিবার দুপুরে পর্ণশ্রীর এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ-এর অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা জোর করে বিজেপি অফিসের সামনে নিজেদের পোস্টার সাঁটাতে চেয়েছিল। বাধা দিলে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং হোর্ডিং-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। বিজেপি নেতা মনোজ হালদারের করা এফআইআরে আরও দাবি করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা কর্মীদের মারধর করেছে এবং অফিস থেকে একটি ল্যাপটপও চুরি করা হয়েছে।বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রত্না চট্টোপাধ্যায় সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। সোমবার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলো, তাপস আইচ, কাজল রায়, মন্টি সিংহ, পূরণ গুরুং, আকাশ থাপা ও দেবাশিস নাগ। ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, গ্রেফতারির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। শুরু থেকেই তিনি এই ঘটনায় দলের যোগসূত্র অস্বীকার করে আসছেন। একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছিলেন, “তৃণমূল এর সঙ্গে জড়িত নয়, বিজেপি নিজেদের মধ্যেই অশান্তি করছে।” যদিও পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রবিবার ঘটনার প্রতিবাদে পর্ণশ্রী থানার সামনে ধরনায় বসেছিলেন বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ। পালটা থানার বাইরে স্লোগান দিতে দেখা যায় তৃণমূল সমর্থকদেরও। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে ওই বিজেপি কার্যালয়ের সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের প্রাক্কালে বেহালা পশ্চিমের এই ‘হেভিওয়েট’ লড়াই এখন স্রেফ প্রচারেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং থানা-পুলিশ আর গ্রেফতারির জটে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল।
