আজকের দিনেতিলোত্তমা

গণনাকেন্দ্রে ‘লোডশেডিং’ আতঙ্ক? কড়া দাওয়াই ডিইও-র

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: একুশের নির্বাচনের নন্দীগ্রাম স্মৃতি কি তবে ছাব্বিশের ভবানীপুরেও ফিরবে? ভোটগণনার দিন ‘লোডশেডিং’ করে কারচুপির যে আশঙ্কার কথা বারবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, তা নিরসনে এবার বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ কলকাতার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (DEO) রণধীর কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই, আর হলেও তার জন্য থাকছে ‘অটোমেটিক পাওয়ার ব্যাক-আপ’।
মমতার আশঙ্কা ও কমিশনের জবাব
​ভবানীপুর কেন্দ্রে এবার সম্মুখসমরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাইভোল্টেজ এই কেন্দ্রের গণনায় কারচুপি হতে পারে বলে দলীয় এজেন্টদের সতর্ক করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দক্ষিণ কলকাতার ডিইও রণধীর কুমারকে এই ‘লোডশেডিং’ সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। জবাবে তিনি বলেন, ​স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা: গণনাকেন্দ্রগুলিতে সিইএসসি (CESC) থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। যদি কোনো কারণে বিদ্যুৎ চলেও যায়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু হয়ে যাবে।
পাওয়ার ব্যাক-আপ: প্রতিটি কেন্দ্রে শক্তিশালী পাওয়ার ব্যাক-আপ রাখা হচ্ছে যাতে এক মুহূর্তের জন্যও গণনা প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়।
নিশ্চয়তা: ডিইও জোর দিয়ে বলেছেন, “লোডশেডিং হবে না, তা আগে থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে।”
​দক্ষিণ কলকাতার নির্বাচনী চিত্র: এক নজরে
​এদিন ডিইও রণধীর কুমার দক্ষিণ কলকাতার নির্বাচনী প্রস্তুতির খতিয়ানও তুলে ধরেন:
বিষয় তথ্য
বাজেয়াপ্ত অর্থ ৮ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা
মোট ভোটকেন্দ্র ১০৯৩টি (ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, রাসবিহারী, কলকাতা বন্দর মিলিয়ে)
স্পর্শকাতর বুথ ৪০০-এর বেশি
কেন্দ্রীয় বাহিনী ৩০ কোম্পানি
তিনি আরও জানান, রাসবিহারী কেন্দ্রের দুটি বহুতলে বিশেষ বুথ তৈরি করা হচ্ছে। বেআইনি অর্থ ও অস্ত্র উদ্ধারেও কমিশন বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।
কেন এই বাড়তি সতর্কতা?
​একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে গণনার সময় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং তারপর ফলাফল পাল্টে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেই মামলা এখনও বিচারাধীন, তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সরব তৃণমূল শিবির। কমিশনের এই ‘অটোমেটিক ব্যাক-আপ’-এর ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, কমিশনের এই আশ্বাসে রাজনৈতিক দলগুলির সংশয় কতটা দূর হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *