বিচ্ছেদের আড়ালে যন্ত্রণাই কি গ্রাস করল অনীক দত্তকে?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে স্তম্ভিত গোটা বিনোদন জগৎ। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘অপরাজিত’ কিংবা ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-এর মতো একাধিক কালজয়ী ছবি উপহার দেওয়া এই পরিচালকের জীবনের শেষটা যে এমন ভয়ংকর হবে, তা কেউই কল্পনা করতে পারেননি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী অনুমান করা হচ্ছে, দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট সংলগ্ন হিন্দুস্তান পার্কের একটি বহুতলের চার তলার ছাদ থেকে মরণঝাঁপ দিয়েছেন তিনি।
নিচে পড়ার ফলে মাথায় ও শরীরে গুরুতর চোট পান পরিচালক। রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকুরিয়ার কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বিবাহবিচ্ছেদ এবং পারিবারিক টানাপোড়েন
জানা গেছে, যে আবাসনের ছাদ থেকে অনীক দত্ত নিচে ঝাঁপ দেন, সেখানেই থাকতেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্ত। ১৯৯৭ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি অনীক ও সন্ধি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ২০২২ সালে বন্ধুদের জোরাজুরিতে নিজেদের ২৫তম বিবাহবার্ষিকীতে নতুন করে বিয়ের শপথও ঝালিয়ে নিয়েছিলেন তাঁরা। সে সময় টোপর মাথায় ও সিঁদুরদানের ছবি পোস্ট করে অনীকবাবু লিখেছিলেন, “আমাদের ২৫ বছরের বিবাহবার্ষিকীতে নিছক বন্ধুদের অনুরোধে এমন কাজ করতে হল, যা আমি আমার নিজের বিয়েতেও করিনি… স্ত্রীর সিঁথিতে সিঁদুরও পরাতে হয়েছে। সেই সিঁদুর… যা কিনা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অংশ…”
তবে এই দীর্ঘ ২৮ বছরের দাম্পত্যের পর গত বছর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের আইনি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। ডিভোর্সের পর থেকে দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে একাই থাকতেন পরিচালক। বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি, ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখারই অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল?
সূত্র মারফত জানা গেছে, বুধবার দুপুরে হিন্দুস্তান পার্কের ওই আবাসনে প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অনীক দত্ত। কিন্তু সন্ধি দেবী তাঁর সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেন। এরপরই সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, পরিচালক একাই আবাসনের চার তলার ছাদে উঠে যান এবং সেখান থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। নিচে পড়ার সময় আবাসন সংলগ্ন একটি গাছের ডাল ভেঙে তিনি মাটিতে আছড়ে পড়েন।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পতনের ফলে পরিচালকের মাথায় ও মস্তিষ্কে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়। এছাড়াও তাঁর মাথার বাঁ দিকের খুলির হাড়, বাঁ দিকের পাঁজর এবং কোমর ভেঙে যায়, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কন্যা ঐশীর জন্য অপেক্ষা ও শেষকৃত্য
অনীক ও সন্ধির একটিমাত্র কন্যা সন্তান রয়েছে, যাঁর নাম রাই (ঐশী)। তিনি বর্তমানে কর্মসূত্রে সুইডেনে (বিদেশ) থাকেন। বাবার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়েই তিনি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। মেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতা পৌঁছানোর পর, তাঁর ইচ্ছা অনুসারেই আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার প্রয়াত পরিচালকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। আপাতত তাঁর মরদেহ ‘পিস ওয়ার্ল্ড’-এ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
