আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

DA-BJP : ডিএ নিয়ে রাজ্যের ধাক্কা, বিজেপি নেতাদের মত…..

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :-  এরাজ্যের সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার বড় রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, তার অন্তত ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে।

এই রায়ের ফলে একদিকে যেমন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া, তেমনই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। বিশেষ করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই রায়কে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিজেপি।

সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এই জয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সম্মিলিত এবং আপসহীন লড়াইয়ের জয়। ন্যায্য অধিকারের জন্য যে সংগ্রাম তাঁরা চালিয়ে গিয়েছেন, তাকে আমি কুর্নিশ জানাই। রাষ্ট্রবাদী মনোভাবাপন্ন সহ সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আন্তরিক অভিনন্দন।”

এই রায় ঘোষণার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য ডিএ থেকে বঞ্চিত করে এসেছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে শুরু করে কলকাতা হাইকোর্ট একাধিক স্তরে আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হওয়ার পরও রাজ্য সরকার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে টেনে নিয়ে গিয়ে রাজ্যের কোষাগারের কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। শুভেন্দুর দাবি, এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা আটকে রাখার উদ্দেশ্যে।

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। আজও সেই প্রতারণা চলছে। সরকার খেলা-মেলা আর উৎসব নিয়ে ব্যস্ত, অথচ কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার দিতে আগ্রহী নয়। এই সরকার দান-খয়রাতির সরকার, অথচ নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বলছে রাজ্যের কাছে কিছুই নেই।”

এদিকে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও রাজ্যের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য,

“সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রমাণ করে দিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে অবস্থান নিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুল ছিল। সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। সেই কারণেই অবিলম্বে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই রায় রাজ্যের আর্থিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি, সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ ও দাবিকে সামনে রেখে বিরোধীরা যে এই ইস্যুকে ভোটবাক্সে কাজে লাগাতে চাইছে, তা স্পষ্ট। ডিএ মামলার রায় রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং সরকার এই নির্দেশ কীভাবে কার্যকর করবে সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সরকারি কর্মচারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *