আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নারাজনীতি

Md Selim : নিউ টাউনের বৈঠক ঘিরে আলিমুদ্দিনে ঝড়, চাপে সেলিম !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডেড ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে নিউ টাউনের একটি হোটেলে বৈঠক করে সিপিএমের অন্দরে তীব্র অস্বস্তির মুখে পড়লেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বুধবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের ১৫ সদস্যের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক জলঘোলা হয়। বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ নেতাই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সেলিমের ওই বৈঠকের তীব্র বিরোধিতা করেন। ফলে কার্যত সম্পাদকমণ্ডলীতে নিঃসঙ্গ অবস্থায় পড়তে হয় রাজ্য সম্পাদককেই।

রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্যের অভিযোগ, দলের সর্বোচ্চ রাজ্যস্তরের নেতৃত্বকে না জানিয়েই কেন হঠাৎ করে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করতে গেলেন সেলিম তার কোনও জোরালো বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। বিশেষ করে স্মার্টফোন ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগের এই যুগে অন্তত সম্পাদকমণ্ডলীর প্রবীণ নেতাদের অবগত না করেই এই ধরনের রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বৈঠক কেন করা হল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক নেতা।

যদিও বৈঠকে সেলিম স্পষ্ট করে জানান, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আলোচনায় বিধানসভা ভোটে আসন সমঝোতা নিয়ে কোনও ধরনের ‘কমিটমেন্ট’ তিনি করেননি। তাঁর বক্তব্য, জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করে হুমায়ুন মুর্শিদাবাদ জেলায় ঠিক কী রাজনৈতিক কৌশল নিতে চাইছেন, তাঁর সংগঠনের প্রভাব কতটা এবং কত ভোট টানতে পারে এই বিষয়গুলি বোঝার চেষ্টা করতেই তিনি ওই বৈঠক করেন। সেলিমের যুক্তি, কেউ যদি ফোন করেন বা কথা বলতে চান, তাহলে কি তিনি ফোন ধরবেন না বা কথা বলবেন না?

তবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সূত্রের খবর, এই যুক্তিতে সম্পাদকমণ্ডলীর অধিকাংশ সদস্য সন্তুষ্ট হননি। বরং তাঁদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত কৌতূহল বা রাজনৈতিক ‘তথ্য সংগ্রহের’ নাম করে দলের অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের বৈঠক দলকে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে ফেলেছে। বৈঠকের জেরে ভোটের মুখে সিপিএম অস্বস্তিতে পড়েছে বলেই সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে একাধিক নেতা সরাসরি মন্তব্য করেন।

হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সেলিমের বৈঠক নিয়ে যে দলে প্রবল প্রতিক্রিয়া হবে, তার ইঙ্গিত গত কয়েক দিন ধরেই মিলছিল। সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এই ইস্যুতে যুক্তি পাল্টা যুক্তির তীব্র লড়াই হয় বলেও জানা গিয়েছে। সিপিএমের বিভিন্ন স্তরে এই নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভোটের মুখে এই ধরনের ঘটনাকে নেতারা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন।

তবে সম্পাদকমণ্ডলীর একাংশ মনে করছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আসন জেতা এখন সিপিএমের কাছে অত্যন্ত জরুরি। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে এই মতও বৈঠকে উঠে আসে। যদিও সেলিম নিজেই সম্পাদকমণ্ডলীতে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে বাম–কংগ্রেস জোটের সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ কোনওভাবেই বামেদের সঙ্গে জোটে আগ্রহী নয়।

আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের একাংশ নেতৃত্বের মতে, অধীর চৌধুরী একা কতটা কংগ্রেসের রাজ্য রাজনীতির লাইন বদলাতে পারবেন, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে কংগ্রেসের যেটুকু সংগঠন অবশিষ্ট, তা মূলত মালদায় ইশা খান চৌধুরী এবং মুর্শিদাবাদে অধীর চৌধুরীর প্রভাবেই টিকে রয়েছে। ফলে এই দুই নেতার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান বাম–কংগ্রেস জোটের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলেই সিপিএম নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে নিউ টাউনের বৈঠক সিপিএমের অন্দরে নতুন করে নেতৃত্বের সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া, রাজনৈতিক কৌশল এবং নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।যার প্রভাব আগামী দিনে দলের রাজনীতিতে কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *