নির্বাচনের প্রাক্কালে কমিশনের তৎপরতা: সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা :- পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার মেগা নির্বাচনের হাতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় বাকি। বুধবার সকালেই সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে শুরু হতে চলেছে হাই-ভোল্টেজ ভোটগ্রহণ। আর এই অন্তিম লগ্নে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।
মূলত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যে সমস্ত ভোটারদের নাম নিয়ে আইনি বিবাদ বা অমীমাংসিত বিষয় ছিল, এই তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফার আগে ট্রাইব্যুনালের তালিকায় ১৩৯ জনের নাম যুক্ত হলেও, দ্বিতীয় দফার প্রাক্কালে সেই সংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৬৮। অন্যদিকে, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে ৬ জনের। ভোটের ঠিক আগের রাতে কমিশনের এই পদক্ষেপ ভোটারদের অধিকার সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ধোঁয়াশা কাটালো কমিশন
বুধবারের মেগা ভোটের ঠিক আগে সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা অবশেষে কাটিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ট্রাইব্যুনালের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৈধতা পাওয়া ভোটারদের নাম কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। তালিকায় নতুন করে কতজন যুক্ত হলেন এবং কতজনের নাম বাদ পড়ল, সেই পরিসংখ্যানও স্পষ্ট করেছে কমিশন।
প্রশাসনের বড়সড় রদবদল
দ্বিতীয় দফার ভোটকে নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথম দফার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২৬ জন দক্ষ পুলিশ অফিসারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে দ্বিতীয় দফার জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
- ব্যারাকপুর: শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলায় কড়া নজর রাখতে পাঠানো হয়েছে অতিরিক্ত ৪ জন অফিসার।
- ডায়মন্ড হারবার: এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রের জন্য ৩ জন অতিরিক্ত অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।
- অন্যান্য এলাকা: হাওড়া, কৃষ্ণনগর, বারাসাত, বসিরহাট, বারুইপুর এবং সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় ২ জন করে বাড়তি অফিসার মোতায়েন করা হয়েছে।
বাহিনীর নিশ্ছিদ্র ঘেরাটোপ
দ্বিতীয় দফায় বুথ স্তরের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন থাকছে ৩৮,২৯৭ জন রাজ্য পুলিশ।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে দ্বিতীয় দফার বুথ:
আসন্ন দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ গাইডলাইন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনে বুথের সংখ্যা এবং সংবেদনশীলতা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের একটি নির্দিষ্ট ছক তৈরি করা হয়েছে।
কমিশনের নয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরাপত্তার চিত্রটি হবে নিম্নরূপ:
- একক বুথ: যে সমস্ত এলাকায় একটি মাত্র বুথ রয়েছে, সেখানে অন্তত হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
- সংযুক্ত বুথ (৩টি): যেখানে তিনটি বুথ একসঙ্গে বা একই চত্বরে অবস্থিত, সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে এক সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী।
- বৃহৎ বুথ কমপ্লেক্স (৫টি): যদি কোনও ভোটকেন্দ্রে পাঁচটি বুথ একসঙ্গে থাকে, তবে সেই চত্বরে দুই সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী পাহারায় থাকবে।
মূলত প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুথের ভেতরে ও বাইরে কড়া নজরদারি চালিয়ে ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশ দেওয়াই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। বাহিনীর এই নিশ্ছিদ্র ঘেরাটোপ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শহর কলকাতার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৭৩ কোম্পানি বাহিনী। এছাড়া ব্যারাকপুরে ১৬০, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৪ এবং বারুইপুরে ১৬১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে। নিউটাউনের স্পেশাল কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। শেষ মুহূর্তের এই প্রশাসনিক রদবদল ও নতুন ভোটার তালিকার সংযোজন ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে, তা বুধবার বিকেলের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
