কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়: নবান্ন বৈঠক থেকে বাংলায় ১ লক্ষ আবাসের ছাড়পত্র
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা:- কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ পরিকাঠামো ও কৃষিক্ষেত্রে গতি বাড়াতে মঙ্গলবার নবান্ন সভাগৃহে একটি উচ্চপর্যায়ের মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। কেন্দ্রীয় কৃষি, কৃষক কল্যাণ ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের দু’দিনের বাংলা সফরের অংশ হিসেবে এই বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কৃষি দপ্তরের মন্ত্রী দুধকুমার মন্ডল, এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সহ দুই সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।
বিগত দিনে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের অভাবে থমকে থাকা কাজগুলোর বঞ্চনা মিটিয়ে এবার দ্রুত গতিতে উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই সরকারই একমত হয়েছে।
বৈঠকের প্রধান সিদ্ধান্ত ও প্রাপ্তি:
-
১ লক্ষ প্রধানমন্ত্রী আবাসের অনুমোদন: এদিনের বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে ভেরিফিকেশনের আগেই গ্রামীণ এলাকার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রায় ১ লক্ষ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি অনুমোদনের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের চা-বাগান এলাকার জরাজীর্ণ ও কাঁচা বাড়িতে থাকা শ্রমিকদের পাকা বাড়ি তৈরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
-
আবাসের তালিকা তৈরির সময়সীমা বৃদ্ধি: বাড়ি পাওয়ার তালিকা তৈরি করার জন্য পূর্বনির্ধারিত ২০ জুলাইয়ের সময়সীমা রাজ্যের অনুরোধে বাড়িয়ে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
-
নতুন জব কার্ড ও ১০০ দিনের কাজ: গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ১০০ দিনের কাজে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ড অনুমোদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং যোগ্যদের দ্রুত নতুন জব কার্ড দেওয়া হবে।
-
কৃষি ক্ষেত্রে বড় পরিকাঠামো: কৃষি ক্ষেত্রে রোড ম্যাপ তৈরির কাজ চলছে। এদিনের বৈঠকে চুঁচুড়াতে ধানের এবং মালদহে আইসিআর-এর আমের প্রজেক্ট ইউনিটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪টি নতুন ট্রেনিং সেন্টার এবং উদ্যান পালনেও ছাড়পত্র মিলেছে। পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে ‘কিষান ক্রেডিট কার্ড’ দ্রুত পৌঁছে দিতে সচেতনতামূলক প্রচার ও জনকল্যাণ শিবির চালানো হবে।
বাংলায় পঞ্চায়েত আইন বদলের ভাবনা: এদিকে সূত্রের খবর, রাজ্যের ২৯০০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে এখনও ১২৫ দিনের কাজ শুরু করা যায়নি। কোথাও পঞ্চায়েত প্রধানের অনুপস্থিতি, কোথাও অনাস্থা আবার কোথাও পঞ্চায়েত স্তরের গড়িমসির কারণে কাজ থমকে রয়েছে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবার রাজ্যে পঞ্চায়েত আইন বদলের ভাবনাচিন্তা করছে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই বৈঠকের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষদের মাথায় ছাদ দেওয়া এবং কৃষকদের স্ব-নির্ভর করে তোলার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক রং না দেখে প্রকৃত যোগ্য মানুষেরাই এই সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দিয়ে বিকশিত ভারত তৈরি হতে পারে না। আগে কেন্দ্রের প্রকল্প এখানে হতো না বলে মন কাঁদত। এখন কাজ শুরু হওয়ায় মন সন্তুষ্ট। আগের সরকারের অসহযোগিতার দিন পেরিয়ে এবার দ্রুত গতিতে ডেভলপমেন্ট হবে এবং এখানে ৮২,৪০০ কোটি টাকার কাজ হবে।”
