এবার ৮ জুলাই অভিষেককে তলব বিধাননগর আদালতের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ ভোটের প্রচারে ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের মামলায় আরও বাড়ল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি। প্রথমবার হাজিরা এড়ালেও, এবার আগামী বুধবার অর্থাৎ ৮ জুলাই বেলা ১০টায় তাঁকে পুনরায় বিধাননগর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে আদালত সূত্রে খবর।
কী এই ‘ডিজে’ বিতর্ক?
লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন ডিজে বাজানো নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় এবং থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে চায় সিআইডি । সেই সূত্রেই বিধাননগর আদালত প্রথমে তাঁকে ৩০ জুন, মঙ্গলবার তলব করেছিল। কিন্তু সেদিন তিনি আদালতে যাননি।
হাইকোর্টে ধাক্কা, মামলা ছাড়লেন বিচারপতি
মঙ্গলবার বিধাননগর আদালতে হাজিরা না দিয়ে আইনি রক্ষাকবচের আশায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানেও ধাক্কা খেতে হয় তাঁকে। কণ্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত এই মামলায় কোনো হস্তক্ষেপ না করে উল্টে মামলা থেকেই সরে দাঁড়ান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। ফলে মঙ্গলবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি জটিলতা এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়।
প্রধান বিচারপতির দ্বারে অভিষেকের আইনজীবীরা
হাইকোর্টে একের পর এক এজলাস বদলের জেরে তীব্র আইনি সংকটে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। একদিকে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, অন্যদিকে অভিষেকের অপর একটি মামলা যে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে রয়েছে, তিনি এই মুহূর্তে বসছেন না। এই পরিস্থিতিতে মামলার দ্রুত শুনানির জন্য অন্য কোনো বেঞ্চ গঠনের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন অভিষেকের আইনজীবীরা।
আইনি মহলের মতে, একদিকে হাইকোর্টে শুনানির বেঞ্চ নিয়ে জটিলতা, আর অন্যদিকে বিধাননগর আদালতের নতুন করে কড়া সমন— সব মিলিয়ে আগামী ৮ জুলাইয়ের আগে সিআইডির কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া রুখতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি স্বস্তি পাবেন নাকি আগামী বুধবার তাঁকে বিধাননগর আদালতেই হাজিরা দিতে হবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
