আজকের দিনেবাংলার আয়না

আমূলের ৬৬০ কোটির লগ্নি! বাংলায় তৈরি হচ্ছে নিজস্ব ডেয়ারি প্ল্যান্ট

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: সিঙ্গুর থেকে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম থেকে রানাঘাট— বাংলায় শিল্পায়নের চাকা ঘোরাতে তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে। এরই মধ্যে বাংলার দুগ্ধ শিল্প ও কর্মসংস্থানে বড়সড় জোয়ার আসার সম্ভাবনা তৈরি হলো। রাজ্যে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার মেগা ডেয়ারি প্রকল্প নিয়ে আসছে দেশের অন্যতম বৃহৎ সমবায় দুগ্ধ সংস্থা ‘আমূল’ । দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় বাংলায় ব্যবসা করার পর, এই প্রথমবার রাজ্যে সম্পূর্ণ নিজেদের মালিকানাধীন ডেয়ারি প্রসেসিং প্ল্যান্ট গড়তে চলেছে সংস্থাটি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তরজা: কার উদ্যোগে এই শিল্প?

আমূলের এই বিপুল বিনিয়োগের খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে, মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ-সহ একাধিক পদ্ম-নেতা এক্স হ্যান্ডেলে এই খবর শেয়ার করে দাবি করছেন, এটি বিজেপির সংকল্পপত্রেরই ফল। কিছুদিন আগেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে বৈঠক করে সিঙ্গুর, অশোকনগর, রানাঘাট, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে শিল্পতালুক গড়ার খসড়া জমা দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা এবং মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার জেরেই এই বড় বিনিয়োগ রাজ্যে আসছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

 পূর্ব ভারতে আমূলের ‘৮০০ কোটি’র মেগা প্ল্যান

সংস্থার মূল সংগঠন ‘গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন’-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ‘কাইরা ডিস্ট্রিক্ট কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রোডিউসার্স ইউনিয়ন’ এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চলেছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতেও নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে অসমেও ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে আমূল।

 আমূলের আগামী বিনিয়োগের খতিয়ান:

পশ্চিমবঙ্গ: ₹৬৫০ কোটি (পূর্ণাঙ্গ মালিকানাধীন কেন্দ্রীয় ও ফিডার প্ল্যান্ট)

অসম (গুয়াহাটি): ₹১৫০ কোটি (দৈনিক ২ লক্ষ লিটার প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা)

অর্থাৎ মোট বিনিয়োগের অঙ্ক: প্রায় ₹৮০০ কোটি টাকা

কেমন হবে বাংলার ‘আমূল’ মডেল?

বর্তমানে শুধুমাত্র কলকাতাতেই আমূলের দৈনিক দুধ বিক্রি প্রায় ১১ লক্ষ লিটার এবং রাজ্য জুড়ে দুধ সংগ্রহের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ লিটারে। এই বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে রাজ্যে একটি বড় কেন্দ্রীয় প্ল্যান্টের পাশাপাশি বেশ কিছু ছোট ছোট ‘ফিডার প্ল্যান্ট’ তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে।

উৎপাদন পরিকল্পনা:

  • কেন্দ্রীয় ইউনিট: ঘি, মাখন এবং আইসক্রিমের মতো দীর্ঘমেয়াদী পণ্য তৈরি হবে।

  • ছোট ফিডার ইউনিট: তরল দুধ, টকদই, ঘোল এবং লস্যির মতো পণ্য তৈরি হবে, যা দ্রুত বাজারে পৌঁছে দেওয়া যায় এবং পরিবহণ খরচ কমে।

অর্থনীতিবিদ ও শিল্পমহলের চোখে এই বিনিয়োগ

২০০৮ সালে বাংলায় যখন আমূল প্রথম পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করে, তখন নানাবিধ সংশয় ছিল। কিন্তু আজ বাংলা আমূলের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বাজার।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দত্ত জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যেখানে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, সেখানে আমূলের মতো সংস্থার এমন বড় মেগা প্রকল্প অত্যন্ত স্বাগত। শিল্পমহলের মতে, এই প্রকল্পের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে দুধ সংগ্রহের পরিকাঠামো যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই কয়েক হাজার বেকার যুবকের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *