আজকের দিনেতিলোত্তমা

দেবাশিস কুমারের পর এবার ইডির তলব সুজিত বসু ও রথীন ঘোষকে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে পর পর দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইডি-র স্ক্যানারে রাজ্যের দুই বিদায়ী মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট প্রার্থী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষ। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁদের দু’জনকেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে।

 ইডিতে সূত্রের খবর, আগামী সোমবার অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ৮ এপ্রিল বুধবার মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষকে ডেকে পাঠিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত বছর থেকেই তৎপরতা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এর আগে রথীন ঘোষের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সুজিত বসুকেও এর আগে নিজাম প্যালেসে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে ভোটের ঠিক মুখে, যখন দুই প্রার্থীই প্রচারে চূড়ান্ত ব্যস্ত, তখন এই নতুন করে তলব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। চলতি সপ্তাহেই জমি দুর্নীতি মামলায় দেবাশিস কুমারকে পর পর দু’বার তলব করা হয়েছে। প্রচার ফেলে তিনি হাজিরাও দিয়েছেন। এবার আরও দুই হেভিওয়েটকে ডাক পাঠানোয় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচন চলাকালীন বেছে বেছে তৃণমূল প্রার্থীদেরই টার্গেট করা হচ্ছে যাতে তাঁদের প্রচার বিঘ্নিত হয়। এই ‘অতিসক্রিয়তা’ আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।

 ভোটের লড়াইয়ে ব্যস্ত সুজিত বসু ও রথীন ঘোষ ইডির ডাকে সোমবার ও বুধবার হাজিরা দেবেন, নাকি প্রচারের কারণ দেখিয়ে সময় চেয়ে নেবেন— তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকেই এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। নির্বাচনী আবহে একদিকে যখন বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার নিয়ে শোরগোল চলছে, তখন হেভিওয়েট প্রার্থীদের একের পর এক তলব বাংলার ভোটের উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *