শান্তিনিকেতনে নন্দলাল বসুর বংশধরের নাম বাদে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,শান্তিনিকেতন: ভারতের সংবিধানকে নিজের তুলির টানে সাজিয়ে তুলেছিলেন শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু। আজ সেই সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার ‘ভোটাধিকার’ থেকেই বঞ্চিত হলেন তাঁর নিজের নাতি। খোদ শান্তিনিকেতনে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল ৮৮ বছর বয়সি সুপ্রবুদ্ধ সেন ও তাঁর স্ত্রী দীপা সেনের। ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি-র বিরুদ্ধে ‘ভয়ংকর পরিহাস’-এর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
যমুনা সেনের ছেলে সুপ্রবুদ্ধবাবু ১৯৫৪ সালে পাঠভবন থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা শেষ করে ডিভিসিতে দীর্ঘ ৩২ বছর চাকরি করেছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে শান্তিনিকেতনের পৈতৃক ভিটেয় বসবাস করছেন তিনি। এর আগে প্রতিবার ভোট দিলেও, এবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় দেখা যায় তাঁর, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের পরিচারক চক্রধর নায়কের নাম বাদ পড়েছে। অভিযোগ, প্রথমে তাঁদের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রাখা হয়েছিল। বাড়িতে এসে শুনানিও করেন নির্বাচন আধিকারিকরা। সুপ্রবুদ্ধবাবু নিজের মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট ও চাকরির নথি দেখালেও শেষরক্ষা হয়নি। অত্যন্ত ব্যথিত কণ্ঠে তিনি বলেন,“এই বয়সে এসে এমন অবস্থার সম্মুখীন হব ভাবিনি। আমার দাদু দেশের সংবিধান অলঙ্করণ করেছেন, আর আজ তাঁর নাতিই দেশের নাগরিক নয়! ভাবলেই কষ্ট হচ্ছে।”
এই ঘটনা সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতা দখলের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ‘ভ্যানিশ কমিশন’-এ পরিণত করেছে। তৃণমূলের দাবি, বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ‘ভুয়ো’ ভোটারদের নাম তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে। শিল্পাচার্যের পরিবারের সঙ্গে এই আচরণ আদতে বাংলার কৃষ্টি ও সংবিধানের অবমাননা।
বয়সজনিত কারণে সুপ্রবুদ্ধবাবুদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হলেও, সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁদের নাম বাদ গেল, তা নিয়ে কোনও সদুত্তর মেলেনি প্রশাসনের তরফে। শান্তিনিকেতনের মতো জায়গায় খোদ নন্দলাল বসুর পরিবারের সদস্যদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।ভোটের আবহে এই ‘হাই-প্রোফাইল’ নাম বাদ যাওয়ার ঘটনা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
