আজকের দিনেতিলোত্তমা

ইডি দপ্তরে অভিষেক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তলবে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নির্দিষ্ট সময়ের কিছুটা আগেই, বেলা ১১টা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও দপ্তরে পৌঁছন তিনি। এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে বের হন সাংসদ।
​ইডি সূত্রে খবর, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর্থিক লেনদেনের গরমিল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ভূমিকা নিয়ে এদিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো আইনি ‘রক্ষাকবচ’ নেই।

নজরে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ ও কোটি কোটি টাকার লেনদেন
​নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একাধিকবার নাম জড়িয়েছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ:
​এই সংস্থার মাধ্যমে শিক্ষা দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছে।
​কালো টাকা সাদা করার জন্য এই সংস্থাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইডির দাবি।
​যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পালটা দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং ভয় দেখাতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে।

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি ও সম্পত্তির খতিয়ান
​বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই যে তৃণমূল সাংসদের সম্পত্তি কড়া নজরদারিতে রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল গত ১৬ মে ফলতার সভা থেকেই। সেই সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, কলকাতায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে এবং আমতলায় রয়েছে একটি প্রাসাদের মতো অফিস। “সব হিসাব হবে”— মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এই হুঁশিয়ারির পর থেকেই মনে করা হচ্ছিল, এই সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যের খোঁজেই অভিষেককে তলব করেছে ইডি।

​অন্যান্য মামলায় আইনি চাপ
​শুধুমাত্র ইডি-র জেরাই নয়, একাধিক মামলায় আইনি সাঁড়াশির মুখে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ​এর আগে বিধানসভার সই জাল করার মামলায় সিআইডি-র তলবে ভবানীভবনে গিয়ে দু’দফায় প্রায় ১৫-১৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। ​আবার আগামিকাল, মঙ্গলবার ‘ডিজে মন্তব্য’ মামলায় ফের ভবানীভবনে সিআইডি-র সামনে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। স্বভাবতই, পরপর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার এই জোড়া তলব এবং ম্যারাথন জেরা ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *