ABHISHEK BANARJEE : বারুইপুর কাণ্ডে পথে সবাই, অভিষেক শুধু ভিডিও কলে — ডিম-হামলার ভয়ে ‘গৃহবন্দি’ সাংসদ?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বারুইপুর :- বারুইপুরের নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। কালীঘাট তৃণমূল, ‘আসল’ তৃণমূল, বিজেপি— সকলেই পথে নেমেছেন। মাঝে অনুপস্থিত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ABHISHEK BANARJEE)। নির্যাতিতার পরিবারকে তিনি শুধু ভিডিও কল করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সোনারপুরে ডিম-ইট হামলার পর পথে নামতে অনীহা — এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে।
রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে বছর এগারোর এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকেই প্রতিবাদে সরব রাজনৈতিক মহল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোমবাতি মিছিল করেছেন। কালীঘাট তৃণমূলের বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডলরা পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। ‘আসল’ তৃণমূলের ঋতব্রত, সায়নী, কাকলিরাও বারুইপুরে গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এসপি অফিসে গিয়ে তদন্তের খোঁজ নিয়েছেন।এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার দিন রবিবার রাতে তিনি বাড়ি থেকে ভিডিও কল করে নির্যাতিতার পরিবারকে বলেন, ‘‘আমরা পাশে আছি। বিচার পেতে যা দরকার, সব করব। আপনারা ধৈর্য রাখুন। আমি চেষ্টা করব একদিন গিয়ে দেখা করে আসার।’’ কিন্তু তিনি নিজে ঘটনাস্থলে যাননি।অভিষেকের এই ‘অনুপস্থিতি’ নতুন নয়। ২০২৪ সালে আর জি কর কাণ্ডের সময়েও দীর্ঘ আন্দোলনের মাঝে তাঁকে সেভাবে ময়দানে দেখা যায়নি। সেই সময় চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশেও গিয়েছিলেন, যা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তৃণমূলের ২০২৪ এর ভোটে ধাক্কার পরিস্থিতি আরও বদলেছে। অভিষেকের নিজের গড় ডায়মন্ড হারবারের ৭টি আসনের মধ্যে বাকিগুলি হাতছাড়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপি ভালো ফল করেছে। এই সময় শাসকের হাতে তৃণমূল কর্মীরা আক্রান্ত হলে তাঁদের পাশে দাঁড়াতেও দেরি করেছেন বলে অভিযোগ। সোনারপুরে নিহত কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথে তাঁকে জনবিক্ষোভ ও ডিম-ইটের মুখে পড়তে হয়েছিল (ABHISHEK BANARJEE)। সেই ঘটনার পর থেকে তাঁকে আর পথে দেখা যায়নি বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক নিজেই বলেছিলেন, ‘‘আমি আপনাদের ঘরের ছেলে, সারাবছর সঙ্গে থাকি।’’ কিন্তু বারুইপুরের ঘটনায় সেই ‘ঘরের ছেলে’ শুধু ভিডিও স্ক্রিনেই সীমাবদ্ধ থাকায় সমালোচনা আরও জোরালো।
একদিকে যখন গোটা রাজ্য বারুইপুরের নৃশংসতার বিচার চেয়ে পথে, তখন তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ বাড়িতে বসে ভিডিও কলেই সীমাবদ্ধ। সোনারপুরের তিক্ত অভিজ্ঞতা তাঁকে পথ থেকে সরিয়েছে নাকি এটা রাজনৈতিক কৌশল — উত্তর নেই। তবে জনতা এখন জবাব চাইছে: জনপ্রতিনিধি হিসেবে ময়দানে না নেমে শুধু আশ্বাসেই কি দায় সারা যায়?
