জ্বালানি সাশ্রয় ও সোনা কেনায় ‘না’: সংকটের মেঘ কাটাতে দেশবাসীকে সংযমী হওয়ার ডাক মোদির
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা আর তার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে ভারতের অর্থনীতি। পরিস্থিতি বিচার করে আমজনতাকে জ্বালানি ব্যবহারে অত্যন্ত সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে শুধু পেট্রল-ডিজেলই নয়, আগামী এক বছর দেশবাসীকে সোনা কেনা থেকেও বিরত থাকার নজিরবিহীন আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা এবং টাকার দামের পতন রোধ করার এক বৃহত্তর রণকৌশল।
কেন সোনা কেনায় নিষেধাজ্ঞা?
ভারতের মতো দেশে যেখানে সোনা শুধু অলঙ্কার নয়, বরং একটি সামাজিক মর্যাদা এবং বিপদের বন্ধু, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কারণ মূলত দুটি:
বিপুল আমদানি ব্যয়: জ্বালানি তেলের মতো সোনাও ভারতকে বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আমদানি করতে হয়। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক দেশ।
ডলারের সংকট: সোনা আমদানির মূল্য মেটাতে হয় ডলারে। মানুষ যত বেশি সোনা কিনবে, সরকারি ভাণ্ডার থেকে তত বেশি ডলার বেরিয়ে যাবে। এতে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে টান পড়বে এবং ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম আরও কমে যাবে।
জ্বালানি তেলের অগ্নিমূল্য ও হরমুজ প্রণালী সংকট
বর্তমানে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে লাফিয়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে। এই অবস্থায় তেলের দাম বাড়লে দেশের অভ্যন্তরে সমস্ত পণ্যের পরিবহন খরচ ও দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
”গোটা বিশ্বে পেট্রল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া। পেট্রল-ডিজেল সংরক্ষণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো আমাদের সকলের জাতীয় দায়িত্ব। আমি দেশবাসীর কাছে আবেদন করছি, আগামী এক বছর বিয়ের প্রয়োজনেও সোনা কেনা থেকে বিরত থাকুন।”— নরেন্দ্র মোদি (তেলেঙ্গানার জনসভায়)
অর্থনীতির ওপর প্রভাব: এক নজরে
অশোধিত তেল ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলার আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি। বৈদেশিক মুদ্রা আমদানির চাপে ভাণ্ডারে টান টাকার মূল্যের রেকর্ড পতন। স্বর্ণ আমদানি বিপুল চাহিদা ও ডলার ব্যয় বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে কেবল সরকারি নীতির ওপর নির্ভর করে অর্থনীতিকে বাঁচানো সম্ভব নয়। দেশবাসীর ব্যক্তিগত সঞ্চয় এবং খরচের অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। সোনা কেনার নেশায় রাশ টেনে এবং জ্বালানি সাশ্রয় করে যদি বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে সুরক্ষিত রাখা যায়, তবেই বিশ্বমন্দার এই ঝোড়ো হাওয়া থেকে ভারতীয় অর্থনীতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
