আজকের দিনেতিলোত্তমা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি বন্ধ হবে? প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল একটিই প্রশ্ন— পূর্বতন সরকারের চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্যসাথীর মতো জনমুখী প্রকল্পগুলি কি এবার বন্ধ হয়ে যাবে? সোমবার নবান্নে নবগঠিত সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে সেই আশঙ্কার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাফ জানিয়ে দিলেন, “কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হবে না, বরং আনা হবে স্বচ্ছতা।”

প্রকল্প চালু থাকলেও আসবে কড়া নিয়ম

এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পগুলো থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হবেন না। তবে তিনি দু’টি শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন: ১. কোনো মৃত ব্যক্তির নামে প্রকল্পের টাকা তোলা যাবে না। ২. কোনো ‘অভারতীয়’ বা বিদেশি নাগরিককে সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না।

এর পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় চলে এল।

প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের ৬টি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

সোমবারের বৈঠকে প্রশাসনিক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মোট ৬টি বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী:

  • শহিদ পরিবারের দায়িত্ব: যে ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁদের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিল রাজ্য সরকার।
  • সীমান্ত সুরক্ষা ও জমি হস্তান্তর: রাজ্যের জনবিন্যাসের পরিবর্তন রুখতে সীমান্ত রক্ষা জরুরি। তাই বিএসএফ-কে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সংযোগ: ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা এখন থেকে বাংলার মানুষ পাবেন।
  • আমলাদের প্রশিক্ষণ: এতদিন রাজ্যের আইপিএস এবং আইএএস অফিসাররা কেন্দ্রীয় ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারতেন না। এখন থেকে সেই বাধা থাকছে না।
  • ভারতীয় ন্যায় সংহিতা: রাজ্যে এতদিন ‘অসাংবিধানিকভাবে’ আইপিসি  লাগু ছিল বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ থেকে বঙ্গে কার্যকর হলো ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’।
  • চাকরিতে বয়সের ছাড়: সরকারি চাকরিতে আবেদন করার ঊর্ধ্বসীমা একধাক্কায় ৫ বছর বাড়িয়ে দিল নতুন সরকার।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা

এদিন নবান্নে ক্যাবিনেট বৈঠকের আগে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।

এক নজরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্তমান স্থিতি: পূর্বতন সরকারের আমলে এই প্রকল্পে মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি-উপজাতির মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পেতেন। নতুন সরকার এই আর্থিক সাহায্য বজায় রাখার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের সুবিধাও চালু করল।

রাজ্য রাজনীতির কারবারিদের মতে, প্রথম বৈঠকেই কেন্দ্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করে শুভেন্দু অধিকারী নিজের প্রশাসনিক দৃঢ়তার পরিচয় দিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *