আজকের দিনেতিলোত্তমা

শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড়সড় সাফল্য পুলিশের, ইউপিআই লেনদেনের সূত্র ধরে ধৃত ৩ শার্প শুটার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে ভিনরাজ্য থেকে তিন শার্প শুটারকে গ্রেপ্তার করল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)। ডিজিটাল লেনদেনের সামান্য একটি সূত্র ধরেই এই হাই-প্রোফাইল খুনের কিনারা করতে চলেছেন তদন্তকারীরা।

গ্রেপ্তারি ও জিজ্ঞাসাবাদ

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত তিন শার্প শুটারের মধ্যে দু’জনকে উত্তরপ্রদেশ এবং একজনকে বিহারের বক্সার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের পর ভিনরাজ্যে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল তারা। গ্রেপ্তারের পর তাদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয় এবং রাতভর ভবানীভবনে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। আজ, সোমবার ওই তিন অভিযুক্তকে বারাসত আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

কীভাবে এল সাফল্য?

চন্দ্রনাথ হত্যায় সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন আধিকারিকরা। মূল সূত্রটি মেলে একটি টোল প্লাজা থেকে:

  • ইউপিআই পেমেন্ট: তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন আততায়ীরা বালি টোল প্লাজায় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টোলের টাকা মেটায়।
  • গাড়ির গতিবিধি: যে গাড়িটি চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে এসে পথ আটকেছিল, সেটি বালি টোল প্লাজা হয়ে মধ্যমগ্রামে ঢোকে। ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে জানা যায়, গাড়িটি ঝাড়খণ্ডের। এই সূত্র ধরেই সোজা উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা।

তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ ও মোটিভের খোঁজ

শার্প শুটাররা ধরা পড়লেও, এই খুনের মূল চক্রী বা মাস্টারমাইন্ড কে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সিট বর্তমানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখছে:

  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ: যে অ্যাকাউন্ট থেকে বালি টোল প্লাজায় টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেই অ্যাকাউন্টের আসল মালিকের খোঁজ চলছে।
  • সুপারি কিলারদের নিয়োগ কর্তা: এই তিন শার্প শুটারকে কে বা কারা সুপারি দিয়েছিল, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।
  • কল রেকর্ড যাচাই: খুনের ১ ঘণ্টা আগে এবং পরে ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকা থেকে কোথায় কোথায় ফোন করা হয়েছে বা কোথা থেকে ফোন এসেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
  • পূর্বপরিকল্পনা: পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রায় দেড় মাস আগে এই খুনের নিখুঁত পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই দেড় মাসের মধ্যে চন্দ্রনাথের সঙ্গে কারও কোনও বিবাদ বা শত্রুতা তৈরি হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই খুনের আসল মোটিভ কী, তা নিয়ে জোরদার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *