‘৪ মে-র পর বিজেপির শপথে আসবই’, শেষবেলার প্রচারে আত্মবিশাসী মোদি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,ব্যরাকপুর:- বঙ্গে চলছে আসন জেতার লড়াই। সেই লড়াইয়ের আজ সোমবার শেষ প্রচার। আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে ছাব্বিশের বঙ্গভোটে প্রচার প্রায় শেষ। আর এই শেষবেলায় সব রাজনৈতিক দলেরই প্রচারের সুর একেবারে সপ্তমে।
সোমবার সকাল সকাল বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সাত বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের হয়ে শেষ জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সিপাই বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত জায়গায় দাঁড়িয়ে মঙ্গল পাণ্ডে আবেগে শান দিলেন। দ্বিতীয় দফা ভোটে দলীয় কর্মী, সমর্থকদের মনোবল আরও চাঙ্গা করতে মোদি বললেন, “বাংলার মেজাজ বলছে, এবার পদ্ম ফুটছেই। অঙ্গ, কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গে পদ্ম ফোটার পালা। নিশ্চিন্তে থাকুন, ৪ মে-র পর বিজেপি সরকারের শপথে আমি আসবই। কথা দিয়ে গেলাম।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ব্যারাকপুরের এই মাটি স্বাধীনতাকে শক্তি দিয়েছে। এই মাটি পরিবর্তনকে প্রশস্ত করেছে। হেলিপ্যাড থেকে এখানে আসতে ২ কিলোমিটার রাস্তা এত মানুষ আমায় আশীর্বাদ দিতে এসেছেন, আমি কল্পনাও করতে পারিনি। এটা আমার শেষ সভা। বাংলার যে যে জায়গায় গেছি, মানুষের সাড়া দেখে এতটুকু বলতে পারি ৪ তারিখের পর শপথগ্রহণে আমায় আসতেই হবে।’’
বাংলার গরমে টানা রোড-শো করেও ক্লান্তি অনুভব করেননি তিনি৷ তিনি বলেন,‘এই দৌড়োদৌড়িতে একটু ক্লান্তি আসে। ৩০-৪০ বছর আগেও ক্লান্তি আসত। কিন্তু এই ভোটে অন্য অনুভূতি হচ্ছে। এই গরম সত্ত্বেও বাংলার ভোটে এতটুকু ক্লান্তি আসছে না। রোড শো শেষ হওয়ার পরেও মানুষের ভিড়। ভিড়ের মধ্যে হেঁটেছি। হেলিপ্যাডে গিয়েছি। এত রোড শো করছি, আমার কাছে এটা তীর্থযাত্রার মতো পবিত্র।”
আগামী ২৯ তারিখ, বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষদফার ভোট। ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে সোমবার বিকেলেই শেষ হয়ে যাবে প্রচার। তার আগে এদিন সকাল সকাল জগদ্দলের মেগা জনসভা থেকে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি জানান, ‘বাংলার রোড শো, সভায় আমাকে আপন করে নেওয়ার বার্তা পেয়েছি। ছবি পেয়েছি। যত রাত হোক, রাতে গিয়ে সেই ছবি দেখি। ছবির পিছনে ছোট শিল্পীদের ভাব বোঝার চেষ্টা করি। চিঠি পড়ি। কোথাও কষ্ট দেখতে পাই, কোথাও আশা। আমি জবাব দিই। বাংলার জনতা জনার্দনের এই অসীম প্রেম আমার সৌভাগ্য। সকলের চোখে স্নেহ দেখি। এটাই আমার জীবনের পুঁজি। ওঁরা আমায় দেখে কেঁদে ফেললে ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। রোড শো, সভা থেকে ফিরে গিয়ে কানে বাজে আপনাদের কথা।’’
এছাড়াও, ইতিহাস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বাংলায় যে বিজেপি সরকার আসছে, তারা শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করবে। ভারতের প্রগতি, সংস্কৃতি, স্বাধীনতায় বাংলার সন্তানদের ভূমিকা ছিল বড়। কিছু দূরে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর পূর্তিতে বাংলাও ঐতিহাসিক পরিবর্তন করতে চলেছে। বন্দে মাতরম দাসত্ব থেকে মুক্তির মন্ত্র ছিল। এ বার বাংলার নব নির্মাণের মন্ত্র তৈরি করতে হবে। সুজলং, সুফলংকে নীতি করব, শস্য শ্যামলং -কে রোজগারের পথ করব। মলয়জ শীতলং-কে সুখ সমৃদ্ধির পথ করব। দুর্গার শক্তিকে সুরক্ষার গ্যারান্টি করব।’’
শ্যামাপ্রসাদ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন,‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গের নারীশক্তি ভরসা করে বিজেপি-তে। বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সাংসদ করেছিল। তার প্রেরণা বিজেপির সঙ্কল্প হয়। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করে তাঁর একটি সঙ্কল্প পূরণ করেছি। আরও একটি সঙ্কল্প রয়েছে শ্যামাপ্রসাদের— বাংলার সমৃদ্ধি এবং শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান।আজ বিকশিত ভারতে এই তিন স্তম্ভ জরুরি। ভারতের ভাগ্যোদয় পূর্বোদয় ছাড়া সম্ভব নয়। ভারতের ভাগ্যোদয় এবং পূর্বোদয় পরস্পরের পরিপূরক। ২০১৩ সাল থেকে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকে বলছি, পূর্ব ভারত যখন এগোবে, তখন দেশ এগোবে। অঙ্গ, কলিঙ্গে কমল ফুটেছে। এখন বাংলার পালা।’’
