ভোটের কোপে পুলকার-বাস উধাও, সোমবার থেকে অনলাইনে কলকাতার অধিকাংশ স্কুল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: দোরগোড়ায় নির্বাচন। আর তার জেরেই আমূল বদলে যাচ্ছে কলকাতার জনজীবন। ভোটের ডিউটিতে অধিকাংশ বেসরকারি বাস এবং পুলকার নিয়ে নেওয়ার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পড়ুয়া ও নিত্যযাত্রীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের বড় স্কুলগুলি সোমবার থেকে অনলাইন ক্লাসের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই জারি থাকবে।
অনলাইনে ফিরছে পঠনপাঠন
পুলকার সংগঠন এবং বাস মালিকদের সূত্রে খবর, সোমবার থেকে কলকাতার প্রায় ৮০ শতাংশ বাস এবং সমস্ত পুলকার নির্বাচনের কাজে চলে যাবে। ফলে স্কুলে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়বে পড়ুয়াদের জন্য। এই তালিকায় রয়েছে:
-
সাউথ পয়েন্ট
-
ডিপিএস
-
বালিগঞ্জ শিক্ষা সদন
-
শ্রী শ্রী অ্যাকাডেমি
-
ক্যালকাটা বয়েজ-সহ একাধিক নামী স্কুল।
স্কুল কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল ভোট এবং ১ মে-র ছুটির মাঝে যাতায়াতের ঝক্কি এড়াতেই ৪ মে পর্যন্ত বাড়িতে বসে পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে হতে ৬-৭ মে হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
বাসমালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তায় বাসের আকাল দেখা দেবে। অফিসযাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে চরম দুর্দিন। পুলকার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুদীপ দত্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সোমবার থেকে কোনো পুলকার চলবে না। ফলে সোমবার থেকেই কার্যত অচল হতে চলেছে মহানগরীর স্বাভাবিক পরিবহণ ব্যবস্থা।
কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাস মালিকদের
গাড়ি দিলেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বকেয়া টাকা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাস সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বাসমালিক সংগঠনগুলির অভিযোগ:
-
কমিশন কথা দিয়েছিল গাড়ি পাঠানোর আগে ৯০ শতাংশ টাকা অগ্রিম দেওয়া হবে।
-
শুক্রবার পর্যন্ত অধিকাংশ মালিকের অ্যাকাউন্টে সেই টাকা ঢোকেনি।
তপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও টিটু সাহার মতো বাসমালিক নেতাদের দাবি, চালক ও খালাসিদের খোরাকি এবং অন্যান্য খরচের অগ্রিম না পেলে গাড়ি ছাড়া কঠিন হয়ে পড়বে। তবে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবারের মধ্যেই প্রয়োজনীয় টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।
