সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণে এবার রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব বিরোধীদের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দিল্লি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ফের কোমর বেঁধে নামল বিরোধী শিবির। লোকসভার পর এবার রাজ্যসভায় তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব জমা দিলেন বিরোধীরা। দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে মোট ৯টি বিষয়কে সামনে রেখে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। সূত্রের খবর, মোট ৭৩ জন বিরোধী সাংসদ এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন।
নেপথ্যে তৃণমূলের সক্রিয়তা
জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর এই লড়াইয়ে এবারও প্রথম সারিতে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবারই তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ডিলিমিটেশন বিল আটকে দেওয়ার পর এবার কমিশনের শীর্ষ পদাধিকারীকে সরাতে তাঁরা পুনরায় উদ্যোগী হবেন। সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভায় এই নোটিস জমা পড়ল।
কেন ফের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব?
এর আগে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ৩০০ সাংসদের স্বাক্ষর সংবলিত একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় সাংসদ সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন। স্পিকারের সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে এবার পুনরায় রাজ্যসভার সচিবালয়ে এই প্রস্তাব জমা দিল ইন্ডিয়া জোট।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মূল ৯ অভিযোগ:
বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে পেশ করা নোটিসে কমিশনারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ: শাসকদলের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য দেখানো।
-
নির্বাচনী জালিয়াতিতে বাধা: জালিয়াতির তদন্ত প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে অন্তরায় সৃষ্টি করা।
-
ভোটাধিকার হরণ: এসআইআর বা বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
সংঘাতের মাঝে ভিন্ন সুর
মজার বিষয় হলো, বৃহস্পতিবারই পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছে। দুই রাজ্যেই রেকর্ড হারে ভোট পড়েছে এবং নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলই কমিশনকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছে। খোদ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিও বাংলার ভোটদান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই ‘সফল’ নির্বাচনের পরদিনই কেন বিরোধীরা পুনরায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ?
নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এই প্রস্তাব খতিয়ে দেখবেন। যদি প্রয়োজনীয় তথ্য ও যুক্তি থাকে, তবেই এটি পরবর্তী আলোচনার জন্য গৃহীত হতে পারে। তবে নির্বাচনের ঠিক মাঝপথে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে এমন নজিরবিহীন টানাপোড়েন জাতীয় রাজনীতিতে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি করেছে।
