৩২ নম্বর ধারা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইডি-কে নজিরবিহীন আক্রমণ সিংভি ও গুরুস্বামীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়াদিল্লি: রাত পোহালেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা। ঠিক তার আগের দিন, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানিতে রাজ্যের সাংবিধানিক অধিকার ও কেন্দ্রীয় সংস্থার এক্তিয়ার নিয়ে শুরু হলো তীব্র বাকযুদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ইডি-র আনা অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কার্যত ‘মৌলিক অধিকার’-এর পাঠ দিলেন মনু সিংভি ও মেনকা গুরুস্বামী।
৩২ নম্বর ধারা নিয়ে সংঘাত
সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ইডি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যে পিটিশন দাখিল করেছে, তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মমতার আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। আদালতে তাঁর জোরালো সওয়াল:
“সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা তৈরি হয়েছে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য, কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার সুরক্ষার জন্য নয়। ইডি নিজেই রাষ্ট্রের এক অত্যন্ত শক্তিশালী অঙ্গ। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কীভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই সুরক্ষার দাবি করে ৩২ নম্বর ধারায় আবেদন জানায়?”
সিংভি আরও যুক্তি দেন যে, ইডি-র একজন আধিকারিক কোনোভাবেই তদন্তের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকের মতো ‘মৌলিক অধিকার’ দাবি করতে পারেন না। ইডি-র মতো সংস্থা যখন সিবিআই তদন্তের আবেদন জানায়, তখন তার আইনি ভিত্তি কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রসঙ্গ ও মেনকা গুরুস্বামী
রাজ্যের অপর আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এদিন সওয়াল করতে গিয়ে ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, রাষ্ট্রের হাত থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়াই মৌলিক অধিকারের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর বক্তব্য:
-
৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রের নিপীড়ন থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচানোর কবচ।
-
যদি ইডি-র মতো কোনো সংস্থা এই ধারা ব্যবহার করে মামলা করে, তবে এই ধারার প্রকৃত উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যাবে।
-
এর ফলে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার দুর্বল হয়ে পড়বে।
ইডির অধিকার বনাম রাজ্যের এক্তিয়ার
আইপ্যাক মামলার শুনানিতে সিংভি সাফ জানান, যদি ইডি-র আবেদনের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তা হবে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও নজিরবিহীন। একজন ইডি আধিকারিক পিটিশন দাখিল করে যে বিশেষ ক্ষমতা দাবি করছেন, তাকেও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।
ভোটের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টে এই আইনি লড়াই রাজনৈতিক মহলেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার ক্ষমতা প্রদর্শন, অন্যদিকে সংবিধানের ‘মৌলিক অধিকার’ তত্ত্বকে সামনে রেখে রাজ্যের প্রতিরোধ— সব মিলিয়ে আইপ্যাক মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে নজর এখন গোটা দেশের।
