আজকের দিনেবাংলার আয়না

ভোটের মুখে ‘অভয়ার মা’-কে পুলিশের সমন!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,পানিহাটি: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক আগেই অগ্নিগর্ভ পানিহাটির রাজনীতি। আর জি কর-কাণ্ডের শিকার তরুণী চিকিৎসকের মা তথা ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথকে তড়িঘড়ি সমন পাঠাল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে ‘কটু মন্তব্য’ করার অভিযোগে এই সমন পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেলেও, তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন বিজেপি প্রার্থী।

সমন ও ভুল নামের বিতর্ক

মঙ্গলবার পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীর কাছে এই সমন পৌঁছায়। সম্প্রতি প্রচারে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তাঁর করা কিছু মন্তব্য সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। পুলিশের দাবি, সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। তবে রত্না দেবনাথের অভিযোগ, পুলিশের পাঠানো সেই নোটিসে তাঁর স্বামীর নাম ভুল লেখা ছিল। আর সেই কারিগরি ত্রুটির কারণেই তিনি সমনটি গ্রহণ করেননি।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ

সমন পাওয়া নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন:

“ওদের (তৃণমূলের) ভাণ্ডারে আর এমন কিছু নেই যা দিয়ে আমাকে আক্রমণ করতে পারে, তাই সমন পাঠিয়ে হেনস্তা করার চেষ্টা হচ্ছে। ভাইপো (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) এসে বলে যাচ্ছেন সৌজন্য বজায় রাখতে, আর অন্যদিকে পিসির পুলিশ আমাকে সমন পাঠাচ্ছে!”

তিনি আরও যোগ করেন যে, মেয়ের বিচারের দাবিতে তাঁর এই লড়াইয়ে তিনি সবকিছু হারিয়েছেন, তাই জেল বা পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাঁকে দমানো যাবে না।

সৌজন্য বনাম আইনি পদক্ষেপ

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই পানিহাটির প্রচারে এসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থীর ব্যক্তিগত শোককে মর্যাদা দিতে এবং কোনোভাবেই যেন তাঁকে কুরুচিকর আক্রমণ না করা হয়। অভিষেক যতটা সৌজন্যের বার্তা দিয়েছিলেন, পুলিশের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ তার বিপরীত মেরুতেই অবস্থান করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

রত্না দেবনাথের পাল্টা দাবি, মনোনয়নের আগে থেকেই তাঁর ওপর নানাভাবে হামলার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আপনারা আমার দিকে ইট ছুড়লেও আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকব।” প্রথম দফার ভোটের আগে পানিহাটির এই ঘটনাপ্রবাহ ভোটারদের মনে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *