মধু কিশওয়ারের বিরুদ্ধে এফআইআর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, চণ্ডীগড়ঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর এবং জাল কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে বিশিষ্ট লেখক তথা বুদ্ধিজীবী মধু কিশওয়ারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করার দায়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।
অভিযোগের নেপথ্যে কী?
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন মধু কিশওয়ার। সেখানে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী স্রেফ ‘ঘনিষ্ঠতা’র বিনিময়ে বেশ কিছু সাংসদকে মন্ত্রী করেছেন। এমনকি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং আবগারি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর মতো ব্যক্তিত্বরা যখন মন্ত্রী হয়েছিলেন, তখনও তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে কোনো এক ‘স্পেশ্যাল সার্ভিস’ প্রদান করেছিলেন বলে দাবি করেন মধু। এই মন্তব্যের মাধ্যমেই তিনি দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদের অধিকারী ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।
পুলিশের পদক্ষেপ ও আইনি ধারা
হরিয়ানার এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে চণ্ডীগড় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মধুর বিরুদ্ধে মূলত যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে তা হলো:
-
ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি: ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ধারা।
-
জালিয়াতি ও ফৌজদারি মানহানি: ৩৫৬ ধারা ও আইটি অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারা।
-
বিদ্বেষমূলক বক্তব্য: নানা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা তৈরির চেষ্টা।
চণ্ডীগড় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সুপরিকল্পিতভাবে ভিডিও ক্লিপ এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করে সাংবিধানিক ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। মধু কিশওয়ার ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন ইউজারের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
মধুর প্রতিক্রিয়া
মধু কিশওয়ার জানিয়েছেন, সোমবার রাতে চণ্ডীগড় পুলিশের একটি দল তাঁর কাছে নোটিস নিয়ে পৌঁছেছিল। তবে আইনের নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর কোনো মহিলাকে নোটিস দেওয়া বা গ্রেপ্তার করা নিষিদ্ধ হওয়ায় তিনি সরাসরি দেখা না করে ফোনে কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, “আইনি নোটিস সম্পর্কে আমি অবগত এবং তদন্তে পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করতে আমি রাজি আছি।”
বিতর্কিত অতীত
মধু কিশওয়ার দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলোতে খোদ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এবার সেই সমালোচনার ভাষাই তাঁকে আইনি প্যাঁচে ফেলে দিল।
