ড্রাম ভর্তি ৭৯৫টি কুকুরের যৌনাঙ্গ উদ্ধার, ঘনীভূত হচ্ছে বড়সড় জালিয়াতির রহস্য
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মধ্যপ্রদেশ: কুকুরের বন্ধ্যাত্বকরণ প্রকল্পের আড়ালে ভয়াবহ জালিয়াতি ও নৃশংসতার অভিযোগ উঠল মধ্যপ্রদেশের মণ্ডলায়। একটি ভাড়া বাড়ি থেকে দু’টি ড্রাম ভর্তি ৭৯৫টি কুকুরের কাটা যৌনাঙ্গ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে কয়েক লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণা ও পশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মন্ডলা পুর কাউন্সিল এলাকায় রাস্তার কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য একটি টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি কুকুর পিছু ৬৭৯ টাকা ধার্য করা হয়। জব্বলপুরের ‘মা অম্বে এন্টারপ্রাইজেস’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই কাজটির বরাত পায়। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযোগ উঠতে থাকে যে, সংস্থাটি আদতে একটি কুকুরেরও অস্ত্রোপচার করছে না। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় গত ২ এপ্রিল ওই সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পুরসভা।
যেভাবে প্রকাশ্যে এল রহস্য
ঘটনার মোড় ঘোরে যখন পশুপ্রেমী নিশা সিং ওই সংস্থার ভাড়া নেওয়া একটি বাড়িতে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ, তহসিলদার, পুরসভা এবং পশু চিকিৎসকদের একটি যৌথ দল ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়:
মোট যৌনাঙ্গ: ৭৯৫টি
পুরুষ কুকুরের অঙ্গ: ৫১৮টি
স্ত্রী কুকুরের অঙ্গ: ২৭৭টি
এগুলি রাসায়নিক ভর্তি দু’টি বড় ড্রামে সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছিল।
জালিয়াতির ছক?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বন্ধ্যাত্বকরণ না করেই পুরসভার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতানোর জন্য এই অঙ্গগুলি বাইরে থেকে সংগ্রহ করে আনা হয়েছিল। প্রমাণ হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা ছিল যে, এই বিপুল সংখ্যক কুকুরের বন্ধ্যাত্বকরণ করা হয়েছে।
পশু চিকিৎসক সুমিত প্যাটেল জানিয়েছেন, “সাধারণত বন্ধ্যাত্বকরণের সময় অণ্ডকোষ বা জরায়ু অপসারণ করা হয় ঠিকই, কিন্তু এভাবে কয়েকশো অঙ্গ ড্রামে জমিয়ে রাখা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং গুরুতর অপরাধের ইঙ্গিত দেয়।”
এই ঘটনায় ইতিম্যধ্যেই সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই অঙ্গগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো বড়সড় চোরাচালান চক্র জড়িত কি না। উদ্ধার হওয়া নমুনাগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
