ইরানের তেলের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধ ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। যার ফলে গোটা বিশ্বে জ্বালানির ওপর প্রভাব পড়েছে। এই আবহে কিছুটা সুরাহার কথা ঘোষণা করলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের অপরিচিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ , সেই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ দিনের জন্য তুলে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে । বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার ।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলা এই যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পা দিয়েছে। এখনো স্বাভাবিক নয় হরমুজ প্রণালী । বিশ্বজুড়ে অপরিশঙ্কিত তেলের দাম ব্যারেল ক্ষতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে । আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে । এই পরিস্থিতিতে কিভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করে এই পদক্ষেপ করে ওয়াশিংটন।
আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মতে, এর ফলে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তেলের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি তেহরানকে বর্ধিত তেলের দাম থেকে লাভবান যাওয়ার ক্ষেত্রে বিরত রাখা যাবে। এ ছাড়াও আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
আগে ইরানের তেল বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি পড়েছিল আমেরিকা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে ইরানকে তেল বিক্রি করার ক্ষেত্রে সাময়িক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে । তবে এখানেও শর্ত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন । তারা জানিয়েছে যেগুলি ইতিমধ্যে পরিবহনের পথে রয়েছে এই অনুমোদন সেই সমস্ত তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে । নতুন কোন ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কার্যকর হবে না ।
বিগত ২৮ এ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল । হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই । তারপর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় । আমেরিকা পিরানের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেয় । ইরানের তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তারা । তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী এক মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
