ধর্মতলায় ক্যানভাসে ‘ভ্যানিশ কুমার’কে ফুটিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মমতার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের ধরনা আজ পঞ্চম দিনে পা দিল। আর এই পঞ্চম দিনে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেছে নিলেন শিল্পসত্তাকে। মঙ্গলবার ধরনা মঞ্চে বসে রং-তুলির টানে তিনি ফুটিয়ে তুললেন এক বিশেষ চরিত্র, যাকে তিনি নাম দিয়েছেন ‘ভ্যানিশ কুমার’। উল্লেখ্য, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেই এই ব্যঙ্গাত্মক নামকরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকায় থাকা নিয়ে কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
ছবি আঁকা শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “এই ছবিটা প্রতীকী। আমাদের শিল্পীরাও আঁকছেন। এসআইআরে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, অর্থাৎ সেই ‘ডেডবডি’গুলি ভ্যানিশ করে দেওয়া হয়েছে, তাই পাশে দুটো মালা রাখা আছে। যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতেই এই মালা। এটি নিছকই একটি প্রতীকী প্রতিবাদ।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে কেন বাংলায় এসআইআর করা হলো? এই প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একাধিক চিঠি লিখলেও কোনো উত্তর পাননি। সম্প্রতি দিল্লিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়েও তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, কমিশনার তাঁদের সঙ্গে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণ করেছেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এই বিতর্ক নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন করা হলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং সকলের বাক-স্বাধীনতা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতামত দিতেই পারে, তবে কমিশন কোনো রাজনৈতিক মন্তব্যের পাল্টা উত্তর দেবে না। কমিশনের এই নীরবতাকে গুরুত্ব না দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভোটার তালিকা নিয়ে তাঁর এই লড়াই রাজপথ থেকে ক্যানভাস— সর্বত্রই জারি থাকবে।
