কীভাবে কাম ব্যাক করলেন সঞ্জু ?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। সেবার চ্যাম্পিয়নের মেডেল পেয়েছিলেন তিনি কিন্তু বিশ্বকাপের দলে সেবার একটি ও ম্যাচে সুযোগ না পেয়ে কিছুটা মন খারাপ ছিল তার। সেবারই মনস্থির করে নিয়েছিলেন দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতাবেন ভাগ্যদেবতা তার এবার সহায় হলো । টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরের শুরুতে যার দলে থাকা নিয়ে সংশয় ছিল সেই সঞ্জু এবারের প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট ।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। তাতেই তিনি করেছেন ৩২১ রান । সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৯, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৭ এবং ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ রান করেন এই ভারতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটার । মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলেই তিনি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানাধিকারী খেলোয়াড় হন । স্বাভাবিকভাবেই তিনি বিশ্বকাপের প্লেয়ার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন । এই সাফল্যের কৃতিত্ব সঞ্জু দিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারকে । তিনি বলেন “শচীন স্যারের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল যখনই বাইরে বসে থেকেছি দলের সুযোগ পায়নি তখনই উনার সঙ্গে কথা বলেছি। সব সময় উনি আমাকে সাহায্য করেছেন। গতকালও ফাইনালে আগে স্যার আমাকে ফোন করেছিলেন । শচীন স্যার যে কিভাবে সাহায্য করেছেন আমাকে তা বলে বোঝাতে পারবো না “।
তবে সঞ্জুর কামব্যাক এতটাও সহজ ছিল না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিয়মিত সুযোগ পেলেও সেভাবে রান করতে পারছিলেন না । তিনি বিশ্বকাপের সুযোগ পেলেও তার প্রথম একাদশে থাকা নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনিশ্চয়তা ছিল । আর টুর্নামেন্ট শুরু হতেই সেটা দেখা গেল । শুরুর দিকের ম্যাচগুলিতে ওপেন করেছিলেন অভিষেক শর্মা এবং ঈশান কিষান । কিন্তু প্রথম সুযোগ আসে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। সেই ম্যাচে অভিষেক শর্মা অসুস্থ থাকায় তার জায়গায় ওপেন করতে নেমেছিলেন সঞ্জু। কিন্তু সেভাবে সাফল্য পাননি। এবার ক্রমাগত অভিষেক শর্মার অফ ফর্ম চলতে থাকায় টিম ম্যানেজমেন্ট রিঙ্কু সিংকে বসিয়ে সঞ্জু স্যামসনকে দলে সুযোগ দেন । জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে শুরু করলেও বড় রান করতে পারেননি তিনি । কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ,ইংল্যান্ড এবং ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলের জয়ে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখেন তিনি ।
এই সাফল্যের কৃতিত্ব অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব এবং কোচ গৌতম গম্ভীরকেও দিয়েছেন তিনি। খারাপ সময় তারা পাশে না থাকলে এই সাফল্য আসতো না বলে দাবি সঞ্জুর।
