আজকের দিনেবিশ্ব

ওয়াশিংটনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অনড় মাদ্রিদ: সামরিক ঘাঁটি ইস্যুতে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের হুঙ্কার!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

 

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ-  মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ইউরোপীয় দেশ স্পেনের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পেনের এই অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে দেশটির সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে ওয়াশিংটনের এই নজিরবিহীন হুমকির মুখেও নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়তে নারাজ স্পেন সরকার।

​সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা এবং ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামরিক ঘাঁটি— রোটা এবং মোরন  ব্যবহার করার অনুমতি চায় পেন্টাগন। কিন্তু স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাফ জানিয়ে দেন, জাতিসংঘের অনুমোদনহীন কোনো একতরফা যুদ্ধে স্পেনের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

​স্পেনের এই আপত্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই হোয়াইট হাউস থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৩ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পেনকে “ভয়াবহ” দেশ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প বলেন,
​”স্পেন যদি আমাদের সহযোগিতা না করে, তবে আমেরিকার তাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমি আমার ট্রেজারি সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিয়েছি স্পেনের সঙ্গে সমস্ত ধরণের বাণিজ্য ও লেনদেন বন্ধ করার উপায় খুঁজতে।”
​প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, আমেরিকা চাইলে যেকোনো সময় ওই ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু তারা তা করবে না কারণ স্পেনের আচরণ “বিশ্বাসঘাতকতামূলক”।

​মার্কিন হুমকির পর স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, স্পেন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না এবং কোনো দেশের ওপর একতরফা আক্রমণের অংশীদার হতে পারি না।” প্রধানমন্ত্রী সানচেজ সরাসরি “যুদ্ধকে না” স্লোগান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

​স্পেনের ওপর ট্রাম্পের এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে পুরো ইউরোপে। যেহেতু স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নেরসদস্য, তাই একটি দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা মানে পুরো ব্লকের সঙ্গে বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটা। জার্মানি ও ফ্রান্স ইতিমধ্যেই স্পেনের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

​প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পেনের এই সিদ্ধান্তে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরণের ফাটল ধরল। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যখন স্পেনকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মাদ্রিদ তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশ্ব জনমত গঠন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *