আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়না

RPF : ট্রেনে উঠতে না পেরে মায়ের আর্তনাদ, দুই শিশুকে পরিবারের কাছে ফেরাল আরপিএফ !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিজস্ব প্রতিনিধি :- চলন্ত ট্রেনে দুই শিশুকে তুলে দিয়েও নিজেরা উঠতে পারলেন না বাবা-মা। চোখের সামনে সন্তানদের নিয়ে ট্রেন ছেড়ে যেতেই আর্তনাদ করে ওঠেন মা। শেষ পর্যন্ত আরপিএফ-এর হেড কনস্টেবল আশিস কুমার নায়েকের তৎপরতায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল আদর্শ ও আরোহী গায়েন নামে দুই শিশু। সমস্ত নিয়ম মেনে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দিল ক্যানিং আরপিএফ।

গতকাল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ডাউন ক্যানিং লোকালে বাড়ি ফিরছিলেন আরপিএফ-এর হেড কনস্টেবল আশিস কুমার নায়েক। ট্রেন গড়িয়া স্টেশনে থামলে উত্তর ২৪ পরগনার দুলদুলি গ্রামের বাসিন্দা নীলেশ ও শঙ্করী গায়েন তাঁদের দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। দম্পতি প্রথমে ছেলে-মেয়েকে ট্রেনে তুলে দেন। কিন্তু তাঁরা ওঠার আগেই ট্রেন ছেড়ে দেয়।

চলন্ত ট্রেনে দুই শিশু দিশেহারা হয়ে পড়ে। এক সহযাত্রী তাদের সোনারপুর স্টেশনে নামানোর চেষ্টা করলে বিষয়টি নজরে পড়ে হেড কনস্টেবল আশিস কুমার নায়েকের। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আদর্শ ও আরোহীকে নিজের কাছে নিয়ে নেন।

এরপর শিশুদের সঙ্গে কথা বলে একটি ফোন নম্বর জোগাড় করেন আশিসবাবু। দ্রুত যোগাযোগ করেন তাদের পরিবারের সঙ্গে। ক্যানিং স্টেশনের আরপিএফ অফিসে আসতে বলা হয় বাবা-মাকে।

ক্যানিং স্টেশনে এসআই এন কে পান্ডের নির্দেশে দুই শিশুকে আরপিএফ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হেড কনস্টেবল আশিস কুমার নায়েক, স্বাতী দে, প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল ও কনস্টেবল সতীশ কুমার তাদের যত্ন নেন। কেক, বিস্কুট, জল দেওয়া হয়। মন ভাল রাখতে গল্পও করেন আরপিএফ কর্মীরা।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্যানিং স্টেশনে হাজির হন নীলেশ ও শঙ্করী গায়েন। এরপর নিয়ম মেনে এসআই এন কে পান্ডের নির্দেশে দুই শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

নীলেশ গায়েন বলেন, ‘ছেলে ও মেয়েকে ট্রেনে তুলে দিয়েছিলাম। আমি ও আমার স্ত্রী উঠতে পারিনি। ট্রেন ছেড়ে দিয়েছিল। ছেলেমেয়েকে হারিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলাম। আরপিএফ-এর উদ্যোগে ছেলে-মেয়েকে ফিরে পাই।’

শঙ্করী গায়েনের কথায়, ‘প্রথমে পুলিশের প্রতি ভরসা ছিল না। পরে যখন ছেলেমেয়েকে ফিরে পাই তখন বুঝলাম ধারণাটা ভুল। আশিসবাবু উদ্যোগ না নিলে হয়তো ছেলে-মেয়েকে ফিরে পেতাম না। অসংখ্য ধন্যবাদ আরপিএফ-কে।’

পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে যাওয়া বা অন্য কোথাও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু আরপিএফ-এর মানবিক মুখ ও তৎপরতায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল দুই শিশু। এমন ঘটনায় আরপিএফ-এর কর্তব্যনিষ্ঠ ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *