একই দিনে দুইবার ধর্ষণ, যুবতীকে বহুতল থেকে ফেলে খুন,চাঞ্চল্য ওড়িশায়
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নৃশংসতার চরম দৃষ্টান্ত গড়ল ওড়িশা। একই দিনে দু’বার ধর্ষণের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন বছর তেইশের এক যুবতী। ঘটনাটি ঘটেছে জগৎসিংপুর জেলায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি যুবতীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকা এক যুবক তাঁকে ফোন করে পালিয়ে গিয়ে মন্দিরে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। যুবতী সেই কথায় সাড়া দেন। কিন্তু অভিযোগ, মন্দিরে না নিয়ে গিয়ে একটি নির্জন জায়গায় তাঁকে নিয়ে গিয়ে প্রথম অভিযুক্ত ধর্ষণ করে। এরপর বাসস্ট্যান্ডে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
বাসস্ট্যান্ডে অসহায় অবস্থায় বসে থাকা যুবতীকে দেখতে পায় আরেক ব্যক্তি। সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে সে তাঁকে বাইকে করে পারাদ্বীপ এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায়। অভিযোগ, সেখানেই ছাদে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয়বার নির্যাতন করা হয়। পরে বহুতলের ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় তাঁকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় যুবতীর। পরদিন সকালে দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হলেও পরে অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ ও খুনের মামলা দায়ের হয়।
নির্যাতিতার দাদা ২৫ ফেব্রুয়ারি পারাদ্বীপ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগেই ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বোন বাড়ি না ফেরায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন তিনি। তদন্তে নেমে পুলিশ দুই অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে অপহরণ, ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।
এই ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেডি সুপ্রিমো নবীন পট্টনায়ক এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আর কত নির্দোষ প্রাণ হারাবে? নাবালিকা থেকে বিশেষভাবে সক্ষম কেউই সুরক্ষিত নয়। রাজ্যে কি আইন-কানুন নেই? আঙ্গুল, পারাদ্বীপ, সম্বলপুর থেকে যে ঘৃণ্য অপরাধের খবর আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” পাশাপাশি তিনি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং মহিলাদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
ঘটনায় শোক ও ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা। তদন্ত এগোচ্ছে পুলিশি স্তরে।
